মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীর শিবপুরে হত্যার বিনিময় হলেও এমপি হতে চান সিরাজ মোল্লা

মাইনউদ্দিন সরকার / ৮৮৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

137

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী -৩ ( শিবপুর) আসনে হত্যার বিনময় হলেও এমপি হতে চান বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় এমন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বক্তব্য রাখছেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও তার কর্মী সমর্থকরা। সম্প্রতি শিবপুরের জয়নগর কামরাব এলাকায় একটি পথসভায় নির্বাচনের জন্য ৭ হাজার দেশীয় অস্ত্র মজুত করে রেখেছেন বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন মুলক একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকে শিবপুর নির্বাচনী এলাকাসহ নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে টক অব দ্যা নির্বাচন হিসাবে সমালোচিত হচ্ছে বক্তব্যটি। শিবপুরের সাধারণ মানুষ শংকিত। আবারো একাদশ সংসদ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে নাকি? একাদশ সংসদ নির্বাচনেও সিরাজুল ইসলাম মোল্লা নৌকার প্রার্থী জহিরুল হক মোহনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন কুন্দারপাড়া একটি কেন্দ্রে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা জোড়পূর্বক ভোট মারতে গেলে,বাধা প্রদান করেন নৌকার কর্মীরা। তখন সিরাজুল ইসলাম মোল্লার উপস্থিতিতে মিলন নামে নৌকার এক কর্মীকে জবাই করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও তার ভাইসহ আরো অনেকে। পরে সেই মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও তার ভাই তাজুল ইসলাম মোল্লা।
তবে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ের কারনে সেই মামলা থেকে তারা দুইজন অব্যহতি পেয়েছিলেন বলে মনে করেন শিবপুরের সাধারণ মানুষ।
শিবপুর আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফজলে রাব্বী খান, সিরাজুল ইসলাম মোল্লার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমুলক প্রচার প্রচারণায় শংকিত হয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে নৌকার প্রার্থী ফজলে রাব্বি খান জানান, আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলমের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগকালে আমার এবং আমার চাচাতো ভাই নরসিংদী-২ আসনের সাবেক সাংসদ কামরুল আশরাফ খান পোটনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি তিনি নিজে ও এ পিএস কালামের মাধ্যমে ভোটারদের মাঝে কালো টাকা ছড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন দেখাচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কামরাব স্কুল মাঠে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা তার নির্বাচনী পথসভায় আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ওই সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান নাদিম আহমেদ সরকার তার বক্তব্যে ৭ হাজার দেশীয় অস্ত্র প্রস্তত রেখেছেন মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সেসব প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছেন। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শনের কারণে নৌকার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেটা নির্বাচন আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সাথে কথা বলতে চাইলে, তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ইটাখোলা সিএনজি স্টেশনে ডেকে নিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোন কথা বলতে রাজী হননি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম জানান,বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা কাজ করছি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ