শিরোনাম :
নরসিংদীতে জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ: আদালতে মামলা ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংকের ক্যাম্পেইন নরসিংদী জেলা প্রশাসকের উদাসীনতা : যে কোনো সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা একজন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া…….. নরসিংদীতে হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান ১২ দালাল আটক সরকারী প্রত্যেকটি দপ্তরে হয়রানী মুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে : নরসিংদী জেলা প্রশাসক শিক্ষার মান বজায় রেখে সঠিক মানুষ গড়ার কারখানা ইনডিপেনডেন্ট কলেজ : মনজুর এলাহী, এমপি মেঘনা গ্রুপের রাক্ষসী থাবা ২ : লীজ প্রাপ্ত না হয়েই মাটি ভরাট আমার বন্ধু মহাজাদু জানে….. নরসিংদীতে অনুমোদনহীন মোটরসাইকেল সংযোজন কারখানা : সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

নরসিংদীতে জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ: আদালতে মামলা

মাইনউদ্দিন সরকার / ২৩ বার
আপডেট : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

25

নরসিংদীর রায়পুরার অলিপুরা গ্রামে ভূয়া ও জাল দলিল তৈরি করে তাছলিমা খাতুন নামে এক নারীর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তোফাজ্জল হোসেন ও তার মা হামিদা বেগমের বিরুদ্ধে। জালিয়াতি ও জমি দখলের ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।

​ অনুসন্ধান ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় অলিপুরা গ্রামের কয়েকজন হিন্দু অধিবাসী ভারতের নাগরিক ইব্রাহিম খাঁ এবং তাঁর দুই পুত্র ইছমাইল খান ও আবুল হোসেন খানের সাথে রেজিস্ট্রি বিনিময় দলিলের মাধ্যমে জমি বিনিময় করে ভারতে চলে যান। যার বিবরণ পরবর্তীতে আরএস রেকর্ডে উল্লেখ করা হয় (১৬/০৩/১৯৬৭ খ্রিঃ তারিখের ২৮৪৩ নং দলিল)। ইব্রাহিম খান বিনিময় সূত্রে প্রাপ্ত জমির কিছু অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন এবং অবশিষ্টাংশ তাঁর দুই পুত্র ইছমাইল ও আবুল হোসেনের মালিকানায় থাকে।
​পরবর্তীতে আবুল হোসেন খান তাঁর অংশের জমি রেজিস্ট্রি হেবা দলিল মূলে তাছলিমা খাতুনকে দান করে দখল বুঝিয়ে দেন। তাছলিমা খাতুন নিজের নামে জমি নামজারি করে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, ইছমাইল খান চাকরির সুবাদে ময়মনসিংহে অবস্থান করায় তাঁর অংশের জমি দেখাশোনার জন্য হামিদা বেগম নামের এক নারীকে কেয়ারটেকার নিয়োগ দেন।
​অভিযোগ রয়েছে, কেয়ারটেকার হামিদা বেগম ইছমাইল খানের জমির সীমানা ছাড়িয়ে পাশের তাছলিমা খাতুনের জমিতে জোরপূর্বক ঘর তুলতে যান। তাছলিমা খাতুন এতে বাধা দিয়ে আদালতে মামলা করলে আদালত জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু হামিদা বেগম আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সেখানে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেন। ইছমাইল খান ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হামিদা বেগমকে দেওয়া কেয়ারটেকার নিয়োগ বাতিল করেন এবং তাঁর জমি ভাই আবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন এবং দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কেয়ারটেকারকে নির্দেশ দেন।
এরপর জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় হামিদা বেগম ও তাঁর পুত্র তোফাজ্জল হোসেন জমি আত্মসাতের  ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
 তাঁরা ভারতীয় মৃত ব্যক্তিদের ভুয়া দাতা সাজিয়ে ও পুরনো জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ১১/০৬/১৯৭৭ খ্রিঃ তারিখের একটি ভুয়া সাফ-কবলা দলিল সৃজন করেন এবং সেই সৃজনকরা দলিলের বলে তাছলিমা খাতুনের জমি জবর দখল করে রাখেন।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারবার তাগিদ দিলেও তারা জমির দখল না ছেড়ে উল্টো তাছলিমা খাতুন ও তার পরিবার লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করে মানসিক নির্যাতন ও হয়রানি করে আসছেন।

​এ বিষয়ে তোফাজ্জল হোসেনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান , তাঁর মা হামিদাকে কেয়ারটেকার নিয়োগ করে দখলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু ব্যক্তিরা ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে এসে পুনরায় ইব্রাহিম খানের নামে একক সাফ-কবলা দলিল করে দিয়ে গেছেন এবং তারা ইব্রাহিম খানের কন্যা আছিয়া খাতুনের ওয়ারিশ হিসেবে এই জমির মালিক ও দখলদার।
​তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে তোফাজ্জলের এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ভারতে চলে যাওয়া হিন্দুদের আত্মীয় অবনী চন্দ্র বিশ্বাস, সত্য বিশ্বাস, মনু চন্দ্র বিশ্বাস জানায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪/৫ বছর আগেই সংশ্লিষ্ট হিন্দু পরিবারগুলো বিনিময় দলিল করে ভারতে চলে যান এবং এরপর তারা আর কোনোদিন বাংলাদেশে আসেননি,ভারত থেকে আসলে অবশ্যই আমরা জানতাম। 
​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তাছলিমা খাতুন বলেন, “আমার নামে রেজিস্ট্রিকৃত ও নামজারিকৃত জমি হামিদা বেগম ও ভূমিদস্যুরা জাল দলিলের ভয় দেখিয়ে গায়ের জোরে দখল করে রেখেছে।
​উক্ত জাল দলিল বাতিল এর জন্য আবুল হোসেন খান ও ইছমাইল খান বাদী হয়ে হামিদা বেগমসহ জড়িতদের বিবাদী করে বিজ্ঞ রায়পুরা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী (১০৬/২০২৫ নম্বর) মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আদালত ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তাছলিমা খাতুন ও তার পরিবার।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ