
নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক পূর্ব শত্রুতায় মব সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মাধবদী থানায় এজাহার করতে ব্যর্থ হয়ে,নরসিংদীর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত ভুক্তভোগীর গুরুতর জখমের স্থির ও ভিডিও চিত্র দেখে মাধবদী থানাকে মামলাটি এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার বিবরণে জানাযায়, মাধবদী পৌরসভার কোতায়ালীরচর মেন্ডাতলা এলাকার মনসুর মিয়ার মেয়ে সেলিনার সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ছিলো, একই এলাকার আব্দুল্লাহ’র ছেলে নুর মোহাম্মদ, মজিবরের ছেলে জাকারিয়া ও সেলিমের ছেলে আনোয়ারের সাথে। এই বিরোধের জের ধরে গত ৪ আগস্ট সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দা,ছুরি ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেলিনাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় সেলিনার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে, অভিযুক্তরা মাদক বিক্রির নামে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করেন।
পরে এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় সেলিনাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আহত সেলিনার মেয়ে জুয়েনা আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদীর মাধবদী আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে মাধবদী থানা মামলাটি রুজু করেন। যার মামলা নং ২৩(৮)২০২৬।
মামলার বাদী জুয়েনা আক্তার জানান, আমার মায়ের সাথে প্রতিবেশী নারগিস বেগমের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে, এরই জের ধরে তার ছেলে জাকারিয়া, নুর মোহাম্মদ ও আনোয়ারকে সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার মাকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে। আমার মায়ের মাথায় ১৫/২০ টি সেলাই লেগেছে এবং শরীরের এমন কোন জায়গা বাকি নেই, যে আঘাতের চিহ্ন নেই। এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তারা মিথ্যা মাদক বিক্রির গুজবে মব সৃষ্টি করে। আমার মা যদি মাদকের সাথে জড়িত থাকে, বা আগে পরে কোন মাদকের মামলা থাকে প্রমাণ করুক। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে, সমস্ত এলাকাবাসীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের মা-ছেলে,বাপ-চাচা ছাড়া এলাকায় আর কোন সচেতন নাগরিক নাই।
তাছাড়া আমার মা অপরাধী হলে, পুলিশ ডেকে প্রমাণসহ ধরিয়ে দিবে, কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অধিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে দিয়েছে কিনা জানতে চাই?
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কল দিলে, নুর মোহাম্মদ ও জাকারিয়া পারিবারিক বিরোধের কথা স্বীকার করে জানান, সেলিনা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে এলাকা ছাড়া করতে এলাকাবাসী নিয়ে আমরা হামলা করেছি। হামলায় সে সামান্য আহত হয়েছে।
সেলিনা বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা বা অভিযোগ আছে কিনা আর মাদক ব্যবসায়ী হলেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের যেটা ভালো মনে হয়েছে আমরা সেটাই করেছি।