বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে (যিনি ৯১টি ভোট পান) পরাজিত করেন। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বসংস্থার এই সর্বোচ্চ ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর পর এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয়।
বাংলাদেশে এই অর্জনের সম্ভাব্য লাভ বা ইতিবাচক প্রভাবসমূহ
ড. খলিলুর রহমানের এই শীর্ষ পদ লাভ বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিশ্বমঞ্চে জোরালো উপস্থাপন: সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল এজেন্ডা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ফলে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন ইস্যুটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা অনেক সহজ হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ আদায়: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী দেশ। জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদটি ব্যবহার করে জলবায়ু অর্থায়ন এবং “লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড” (Loss and Damage Fund) থেকে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অনুদান নিশ্চিত করতে আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
শান্তিরক্ষা মিশনে অবস্থান সুসংহতকরণ: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশ। সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব বাংলাদেশের এই অবদানকে বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও এই সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো দাবিগুলো উত্থাপনের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত কার্যকর হবে।