শিরোনাম :
নরসিংদীতে রোগীর সাথে চিকিৎসকের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম বদলী আদেশে তোলপাড় নরসিংদী জেলা প্রশাসন নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠিত : আউয়াল সভাপতি, সজল সম্পাদক ধন্যবাদ তারেক রহমান : বিএনপিতে মুল্যায়িত হচ্ছেন ত্যাগীরা দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত ড্রীম হলিডে পার্ক নরসিংদী আইনজীবী সহকারীদের সাথে ভিপি খবিরুলের ইফতার নারীদের মানববন্ধন চলাকালে বিএনপি নেতার হামলা, সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা জিসাসের যুগ্ম সম্পাদক হলেন মমিনুর রশীদ শাইন সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ ভুইয়ার মাতৃবিয়োগ নরসিংদীর পলাশে বিএনপি নেতার মদদে মাদক ব্যবসা
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

নারীদের মানববন্ধন চলাকালে বিএনপি নেতার হামলা, সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা

স্টাফ রিপোর্টার / ৬৯ বার
আপডেট : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

88

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা ও সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাঁধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গেইটে এলাকার নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন চলাকালে এ ঘটনা ঘটায় আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তার লোকজন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সামনেই মানববন্ধন করতে আসা নারীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও বিদ্যালয় মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এসময় মানববন্ধনকারী কয়েকজন নারী ও একজন পুরুষকে মারধোর করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত নূর শাখাওয়াত হোসেন প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছে। জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা হয় দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত সহ নানান অভিযোগ। পরে আদালত এসবের প্রমাণ না পাওয়ায় অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল করে। এরপরও নিজ কার্যালয়ে আসতে পারছেননা তিনি। এসবের প্রতিবাদে স্থানীয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়। আর সেখানেই আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া এসে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে মানববন্ধনে আসা ব্যক্তিদের হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করে। এসময় আমজাদ হোসেন সহ আরো ৪-৫ জন মিলে মানববন্ধনকারীদের উপর হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় তারা। এসময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে বাঁধা দেয় বাদল ও লোকজন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানান ধরনের মিছিল ও স্লোগান দিয়ে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতর রাজনীতি চলছে। এসবের প্রতিবাদ করতে আসলেই স্থানীয় আমজাদ নামে এক ব্যক্তি নারীদের গায়ে হাত তুলতে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।
আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়- যা কোর্টে প্রমাণিত হয়নি। কোর্ট অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল করে একটি রায় ঘোষনা করেন। তিনি আরও বলেন, নূর শাখাওয়াত হোসেন অধ্যক্ষ থাকাকালীন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফলের হার ছিলো প্রায় ৯৯ শতাংশ, যা পরে কমে গিয়ে বর্তমানে আনুমানিক অর্ধশতাংশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার ব্যাপারে প্রশাসনকে জানানো হলে তাৎক্ষনিক রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূূলক আচরণ করায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা।
এ সংবাদ লেখার আগ পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মানববন্ধনকারীরা।
রায়পুরা থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ