আজ ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত নরসিংদীর তাহমিদ এর প্রথম শাহাদাৎ বার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাহমিদ এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল এন্ড হোমস্ স্মরণ সভার আয়োজন করেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত তাহমিদ স্মরণ সভায় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনকেএম হাইস্কুলের বিরুদ্ধে।
এনকেএম হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির মোল্লা’র সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করেন,বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীকে।
জাঁকজমকপূর্ণ স্মরণ সভার আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাথার উপরে ট্রিপল দিয়ে ঘেরা একটি সু-সজ্জিত মঞ্চ তৈরী করেন। যেখানে বসার জন্য শুধুমাত্র সভাপতি, প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির আসনে ব্যবস্থা করা হয়।
অপরদিকে নোটিশের মাধ্যমে বাধ্যতামুলক উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য খোলা আকাশের নীচে চেয়ার পেতে বসার ব্যবস্থা করা হয়।
দুপুরের খোলা আকাশের নীচে বসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রোদের তাপ ও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। এসময় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ক্ষোভের বিষয়টি জানতে পারেন, প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি। তাই অতিথিবৃন্দ স্মরণ সভা না করেই ফিরে যেতে চাইলে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমাসুন্দর অনুরোধে সভা করতে রাজী হন। তবে প্রধান অতিথি খায়রুল কবির খোকন শর্ত দেন, মঞ্চে বসে নয়, সবার সাথে খোলা আকাশের নীচে দাড়িয়ে স্মরণ সভা করবেন।
পরে খোলা আকাশের নীচে দাড়িয়ে তাহমিদের স্মৃতিচারনসহ বিভিন্ন বক্তব্য রাখেন অতিথিবৃন্দ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের আশীর্বাদ পুষ্ট আব্দুল কাদির মোল্লা, বর্তমানে ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই তাহমিদের আত্মত্যাগকে পুঁজি করে, বিএনপি নেতাদের মনজয় করে ফায়দা লুটতে চাইছেন। তাই তিনি অতিথিদের মনজয় করতে গিয়ে, আমাদের সাথে বৈষম্য করেছেন। কিন্ত জনগণের বন্ধু অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খায়রুল কবির খোকন ঠিকই ধরতে পেরেছেন বৈষম্যের বিষয়টি। ধন্যবাদ জানাই বিএনপি নেতৃবৃন্দকে।
তবে সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল কাদির মোল্লা, এ বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করে, ক্ষমা চেয়েছেন।