নরসিংদীর সদর উপজেলার শীলমান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা জাকির হোসেন মৃধা। পেশায় ছিলেন নরসিংদী-ঢাকা, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রোডের বাস চালক। বর্তমানে নরসিংদী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। রয়েছে নিজস্ব টয়োটা সিলভার রঙের এক্সজিও ব্যান্ডের গাড়ি ও একাধিক গাড়ির ব্যবসা। জাকির হোসেন মৃধা শীলমান্দি ইউনিয়নের সাহেপ্রতাব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও লতিফ মৃধার ছেলে।
কোনো জাদুর কাঠির ছোঁয়া নয়, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়েই তিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা।
এতদিন তার ভয়ে সাধারণ শ্রমিকেরা মুখ না খুললেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ মামলা হওয়ার পর থেকে এখন একে একে সবাই তুলে ধরছেন শ্রমিক নেতা জাকির মৃধার দুর্নীতির আমলনামা।
সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও নেতাদের সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-২০০৪ সালে আলমগীর সাব নামে ঢাকার এক পরিবহন শ্রমিক নেতার গ্রীন লাইন পরিবহন নামে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা-নরসিংদী রোডের গাড়ির চালক ছিলেন। কয়েক বছর গাড়ি চালানোর পর ২০১০ সালে সাহেপ্রতাব মোড়ে অবস্থিত নরসিংদী জেলা ট্রাক, ট্র্যাংকলড়ী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের (ঢ-৩৮৯৯) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১২ বছরের মধ্যে তিনি অনেক সম্পতির মালিক হয়েছেন। বর্তমানে রয়েছে তার ৪টা গাড়ি। টয়োটা ব্যান্ডের এক্সজিও (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৪-৭৮৬০) প্রাইভেটকারটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন এবং বাকি তিনটি গাড়ির মধ্যে একটি রপ্তানি-ভৈরব (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৫৩২) ও মিনি কোস্টার দুটি (ঢাকা-গ-১৪-০০৮৩ ও ঢাকা মেট্রো-ছ-১৪-০১৪৫) মাধবদী-ভৈবর রোডে চলাচলা করে। গাড়ির গুলোর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকার উপরে রয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, ইউনিয়ন অফিস সাহেপ্রতাবের মোড়ে হওয়ায় জাকির মৃধা অফিসে একক আধিপত্য বিস্তার করেন। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বনে শ্রমিকদের চাঁদার টাকা আত্মসাৎ করে। শুধু তাই নয় সাধারণ সম্পাদকের নাম ভাঙ্গিয়ে জমি-জমা সংক্রান্ত বিচার করে বহু অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। দূর্ঘটনায় আহত শ্রমিকেরা চিকিৎসা ভাতা চাইতে গেলে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের ন্যায্য ভাতা থেকে বঞ্চিত করতেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতে না। ওইসব অর্থ পরে নিজে আত্মসাৎ করতেন। যে ব্যক্তি একজন বাস ড্রাইভার ছিলেন। মাত্র ১০/১২ বছরে কিভাবে এত টাকার মালিক হয় সেটা আমাদের প্রশ্ন আপনাদের কাছে? তিনি আরও বলেন, আপনারা জাতির দর্পন। আশাকরি সত্য প্রকাশ করবেন। আমরা আমাদের চাঁদার অর্থ ফেরত চাই।