
নিজে পৌরসভার মেয়র, মেয়ের জামাই আজহার অমিত প্রান্ত মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ভাগীনা আরিফ হোসেন নুরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, অপরদিকে ছোট ভাই নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী হোসেন শিশির এমপি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। পরিবার সংশ্লিষ্ট এতগুলো পদ-পদবী ও ক্ষমতা নিয়ে মাধবদীতে রাম রাজত্ব কায়েম করতে চান মাধবদী পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন মানিক। ক্ষমতার দাপটে মেয়র মানিক নিজেকে কিং মনে করেন। কাউকে পরোয়া করেন না। তার হুমকি ধমকিতে ভয়ে তটস্থ সাধারণ মানুষ। এমপির নিকট তার বিরুদ্ধে কথা বলায় মাধবদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ভিপি জসিমকে ফোন করে হুমকি প্রদান করেন। সেই হুমকি প্রদানের রেকর্ড এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাবেক জনপ্রিয় ভিপি ও প্রেসক্লাবের সভাপতিকে যেভাবে হুমকি প্রদান করেছেন, সাধারণ মানুষ সেখানে কতটা অসহায় সেটা বলার অপেক্ষা থাকেনা। একদিকে পৌরসভার মেয়র অন্যদিকে সোনার বাংলা সমবায় সমিতির সভাপতি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে নিরব চাদাবাজীর কথাও শোনা যায়। তবে সোনালী টাওয়ার নির্মাণ করে, ফ্ল্যাট বিক্রির নামে মাধবদীর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ক্রেতাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এমনকি সোনালী টাওয়ারের অসমাপ্ত কাজ ও সমাপ্ত করছেন না। যারা সোনালী টাওয়ারে ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা বিনিয়োগ করেছেন, তাদের বেশীরভাগই মাধবদীর ব্যবসায়ী। তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মেয়রের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারেন না। প্রবাদে আছে বাপকা বেটা সিপাইকা ঘোড়া, সেই প্রবাদের চিরন্তন ধারাবাহিকতায় মেয়ের জামাই আজহার অমিত প্রান্ত মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েই শুরু করেছেন, লুটপাট ও চাঁদাবাজী। পাঁচদোনায় একটি ফলের আড়তে প্রান্ত বাহীনি হামলা চালিয়ে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেন, আদালতে মামলা হয়েছে। ভাগীনা আরিফ হোসেন নুরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর আয়নাল হাজী নামে এক ব্যবসায়ীর নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না দেওয়ায় আয়নাল হাজীর বাড়ীর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন এবং পরবর্তীতে তার সুতার গোডাউনে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন মর্মে, আদালতে চাঁদাবাজী মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন। পরে অবশ্য আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। মেয়র মোশারফ হোসেন মানিকের রাম রাজত্ব ও নৈরাজ্য নিয়ে অনুসন্ধান চলমান আছে।