
সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে ভোক্তাদের বেশি দামে কিনতে হয়েছে পেঁয়াজ। এরপর এলো কাঁচামরিচ। এবার বাজার গরম করল আলু। যে আলু প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের নিত্যদিনের পণ্য। কোনো তরকারি না হলেও, শুধু যে আলু দিয়ে দুপুর আর রাতের খাবার সম্পন্ন করা য়ায় সেই আলু এবার বাজার গরম করল। দাম বাড়তে বাড়তে এখন ৫০ টাকা কেজি। প্রচলিত নিয়মে দামের দিক থেকে আলু ছিল বেশ সস্তা। কিন্তু আলু ২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন ৫০ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। রোজার পর থেকে বাজারে আলুর দাম আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। গত দুই দিনে বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি বেড়েছে ১০ টাকা। কিছু দিন আগেও আলুর কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়। আলুর দাম বাড়ল কেন? এই প্রসঙ্গে বিক্রেতা হারিস জানায়, কেন যে বাড়ল তা তো বলতে পারব না। তবে আমরা যে দামে আগে কিনতাম এখন তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যে কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কেজিতে যদি ২ টাকা লাভ করতে না পারি তা হলে এই ব্যবসা করে লাভ কী? ভ্যানে করে আলু বিক্রি করে রমিজ মিয়া। সে জানায়, দুই দিন আগেই সে আলু বিক্রি করেছে ৪০ টাকায়। কিন্তু এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০ টাকায়।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী গত বছর দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ টন। এই উৎপাদন দেশে আলুর যে চাহিদা তা অনায়াসে পূরণ করা যায়। দেশে আলুর চাহিদার পরিমাণ ৮৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু হিমাগারে রয়েছে। এরপরও আলু নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট নতুন করে খেলা শুরু করেছে, যা ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। এর ফলে বাড়তি চাপও বেড়েছে প্রতিটি সংসারে। আলু সরবরাহ নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেক বছরে উদ্বৃত আলু নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। এ বছর তো আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তা হলে কেন বাড়ল আলুর দাম আমরা কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। হিমাগার মালিকরা ৪০ হাজার টন এখনও আলু বীজের জন্য রেখেছেন। এরপরও যখন শুনি আলুর দাম বেড়েছে তা হলে প্রশ্ন উঠে কারা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।