
গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ । যা বিগত বাইশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার। ফলাফল বিপর্যয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং দেশ সেরা তকমা লাগিয়ে ব্যবসায়িক লাভবান হতে চেষ্টা করার প্রশ্ন উঠেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের বিরুদ্ধে। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে কলেজের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ এবারো দেশ সেরা,বোর্ড সেরাসহ বিভিন্ন রকম স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। আর এই স্ট্যাটাস দেখে নেট দুনিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে , এটা কি আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের ব্যবসায়ীক লাভবান হওয়ার প্রচেষ্টা নাকি পেখম লাগিয়ে ময়ূর সাজার চেষ্টা।
বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কিভাবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে? তারই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম কিস্তি ছাপা হলো আজ :
“মিথ্যা তথ্য নিয়ে কেন এতো লাফালাফি ..?”
ফলাফল প্রকাশের পর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লাকে দেখা গেল এইচএসসি-তে পাসের হারে সেরা হওয়ার কারণে লুঙ্গি পরিধান করে আনন্দ করতে ! ভালো রেজাল্টের জন্য অবদান রেখেছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ করবে প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকগণ, কিন্তু উনাদের আনন্দ করতে দেখা যায়নি কেন ? আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ পাসের হারে সেরা, নাকি জিপিএ-৫ এ সেরা ?
প্রকাশিত ফলাফলে নরসিংদীর মনোহরদী পাঁচকান্দী কলেজসহ ১৩৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে। সেখানে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৪। সে হিসেবে তাদের অবস্থান ১৩৯ এর পরে, তারা দেশ সেরা বা বোর্ড সেরা হয় কিভাবে?
এবার দেখা যাক জিপিএ ৫ সেরা কে?
মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ৪১ জনের মধ্যে ৪১ জনই জিপিএ-৫ পেয়ে শতভাগ পাস করেছে।
ঢাকা নটরডেম কলেজ, ৬৮ দশমিক ৪৬ ভাগ জিপিএ ৫ আর সেখানে সিটি কলেজ, ৩৬ দশমিক ১৫ ভাগ সেরা হয় কিভাবে?
এখন আসা যাক আভ্যন্তরীন বিষয়ে, কলেজ সুত্রে জানাযায়, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৫৫২ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৬১ জন, অথচ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলো ১১৮৭ জন। এই কলেজে পড়ালেখা করে ৬২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। যেসকল অভিভাবকরা সন্তানদের জিপিএ ৫ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ব্যয়বহুল সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন। সেসকল অভিভাবকদের মনজয় করতেই এই মিথ্যাচার। পেখম লাগিয়ে ময়ূর সেজে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা।
অখ্যাত কাদির মোল্লা যেভাবে বিখ্যাত হয়েছেন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিষয়ে আসছে আগামী পর্বে।