দেশে অন্যতম অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ফেলো এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো। কাজ করেছেন জেনাভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায়ও। যিনি কিনা আজীবন বিএনপির নীতিনির্ধারণী নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে আসছেন, সেই ভদ্রলোক পর্যন্ত আজকে মিডিয়ার সামনে বাজেট প্রতিক্রিয়াতে ভূয়সী প্রশংসা করল বর্তমান সরকারের।
তিনি বললেন, অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চিন্তাশীল বাজেট হয়েছে এবার৷ যে সমস্ত পদক্ষেপের কথা এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, সরকার অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার জন্য বিনিয়ন্ত্রণ, একইসঙ্গে উদারীকরণের ওপর বড় জোর দিয়েছে।
এটার ভেতরে একটি মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। সেজন্যই বিভিন্ন বরাদ্দের উল্লেখ আছে। যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
তিনি সবশেষে বলল, এখন দেখার বিষয় এ সুন্দর বাজেটটিকে আগামী দিনেই কীভাবে সরকার বাস্তবায়ন করেন, সংস্কারের পথে নিয়ে যান।
এছাড়াও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো: মোশাররফ হোসেন ভূইয়া চ্যানেল আই’ য়ের টকশোতে বাজেটের প্রসংশা করেছেন। সাধুবাদ জানিয়েছেন চমৎকার একটি বাজেট পেশের জন্য।
অথচ এদিকে মাগরিব নামাজের বিরতির শেষে যেই মুহূর্তে সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় এবং জনবান্ধন বাজেটের মূল অংশ পেশ করছেন, সেই সময়ে জামায়াত ঢাকার রাস্তায় মিছিল নিয়ে বের হয়েছে বাজেটের বিরুদ্ধে। ‘গরিব মারার বাজেট’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। মনে হয় তাদের ব্যানার দুই দিন আগেই রেডি ছিল।
তাদের বক্তব্য এই বাজেটটি নাকি ‘গণবিরোধী এবং গণনিপীড়ক’ হয়েছে। হায় আল্লাহ, যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যেরই দাম কমানোর ঘোষণা হয়েছে। সবশ্রেণি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রপার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা হয়েছে, এ বাজেটিকে যদি বলা হয় ‘গনবিরোধী কিংবা গণনিপীড়ক’ বাজেট, তবে আর কোন ধরনের নীতিগ্রহণ হবে জনবান্ধন বাজেট তা আমাদের বোধগম্য হয় না।
জামায়াত আসলে কী চায়, সেটাও মনে হয় তারাও জানে না! তা ছাড়া তাদের কি বাজেট বুঝার মত নেতৃত্ব আছে?