বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

মেঘনা গ্রুপের রাক্ষসী থাবা ২ : লীজ প্রাপ্ত না হয়েই মাটি ভরাট

মাইনউদ্দিন সরকার / ২৮ বার
আপডেট : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

37

পুর্ব প্রকাশিতের পর
মেঘনা গ্রুপের এই অবৈধ জমি দখল ও নদী ভরাটের পেছনে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
মোজাম্মেল বাবু এবং মেঘনা গ্রুপের মালিকানা মিডিয়ার স্থানীয় কয়েকজন নামধারী সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মেঘনা গ্রুপের যাবতীয় অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করা হতো। কোনো কৃষক প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের নামে মামলা বা হয়রানি করা হতো।
কৃষকের তিন ফসলি জমি জোরপূর্বক বালু দিয়ে ভরাট করে মেঘনা গ্রুপ। ন্যায্য পাওনা বা ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে মিলত মারধর, মিথ্যা মামলা ও গুমের হুমকি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক নামমাত্র সস্তা মূল্যে তাদের জমি এই কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
সাহারখোলা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক হাজী আব্দুল আলী জানান, আমাদের চার কানি গোল আলু, মিষ্টি আলু, মরিচ,সরিষাসহ নানা জাতের ফসলি জমিতে কোম্পানি জোরপূর্বক বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে, বাধা মানেনি। এখন বলছে তাদের দেয়া দামে দলিল করে দিতে, আমরা দেইনি। এখন সেই জমিতে শুধু গরুর ঘাস বুনেছি। তাদের বাহীনির লোকজন ঝোপঝাড়ে বসে থাকে আমরা একা জমিতে যেতে পারি না।

বৈকুন্ঠপুর গ্রামের জেলে শম্ভু চরন জানান, আমরা এই গ্রামে শতাধিক জেলে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস কাঁকন নদী থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করা। মেঘনা গ্রুপ খাল ভরাট করে দখল করার কারনে এই নদী এখন মৃত প্রায়। স্রোত না থাকায় নদীতে কচুরিপানা ভরাট হয়ে গেছে। কোন মাছ তো দুরের বিষয় পানিও পাওয়া যায় না।
এসময় বৈকুন্ঠপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, এখানে তো খাল ছিলো। এই খাল দিয়ে বড় বড় মালবাহী নৌকা চলতো। আমরা সহজেই ভৈরব থেকে মোকাম করতে পারতাম। এখন নৌকা দিয়ে ভৈরব যেতে হলে পান্থশালা থেকে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে করে সময়ের অনেক অপচয় হয়। কোম্পানি প্রজেক্ট করবে ভালো কথা। লোকের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু বিশ হাজার লোকের জীবনযাত্রা ও আয়ের উৎস ব্যাহত করে, দশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তাছাড়া সাহারখোলা খাল দখল ছাড়াও তো কোম্পানি প্রজেক্ট করতে পারবে!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, সাহারখোলা খাল দখল করার সময় আমরা গ্রামবাসী বাধা প্রদান করেছি, মানববন্ধন করে প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছি, কিন্তু অদৃশ্য কারনে, প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। উল্টো কোম্পানির ক্যাডার বাহীনির লোকজন আমাদের মামলা,হামলা ও গুমের হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ অসহায় তাই কিছু বলতে সাহস পাইনা। তা নাহলে লীজ প্রাপ্ত না হয়েই খালসহ সরকারী খাস জমি দখল করে ভরাট করতে পারতো না। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি, সাহারখোলা খাল পুনরুদ্ধার করে কাঁকন নদীকে বাচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

মেঘনা গ্রুপের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদককে ম্যানেজ করা হয়ে যায় বলে জানান, মিডিয়া রিলেশন অফিসার হুমায়ুন কবির|

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, জানতে পেরেছি কাঁকন নদীকে মেঘনা নদীতে সংযুক্ত করতে একটি খাল ছিলো। এখনো মেঘনা গ্রুপের লীজ অনুমোদন হয়নি। লীজ প্রাপ্ত না হয়ে খাস জমিতে মাটি ভরাট অবৈধ, আর খাল ভরাটতো সম্পুর্ন অবৈধ। আমি এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, লীজ প্রাপ্ত না হয়ে খালসহ সরকারী খাস জমি দখলের বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। এখন যেহেতু জানতে পেরেছি, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে, এবং মেঘনা গ্রুপকেই আবার খাল খনন করে দিতে হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট আমলে মেঘনা গ্রুপের অবৈধভাবে দখল করা খাল ছেড়ে দিতে হবে, কৃষকদের জমির ন্যায্য মুল্য পরিশোধ করতে হবে, নইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলবো।
নদী মাতৃক বাংলাদেশের কাকন নদীকে বাচাঁতে সাহার খোলা খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় এলাকাবাসীর।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ