শিরোনাম :
পুলিশ-বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ধর্ষণ ঘটনায় সালিশ ॥ ক্ষোভে কিশোরীর গলায় ফাঁস দেশব্যাপী ধর্ষণের ঘটনায় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্বেগ : দ্রুত বিচার ও আইন সংস্কারের দাবি। নরসিংদীতে বিএনপির প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে সদর প্রেসক্লাবের বৈশাখী পুনর্মিলন সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব সত্য উদঘাটন করা : জেলা প্রশাসক,নরসিংদী। নরসিংদীতে সফলভাবে সম্পন্ন হলো জিরো অলিম্পিয়াড ক্যাম্পেইন বানিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু : চেতনা পরিবারের শোক নরসিংদীতে রোগীর সাথে চিকিৎসকের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম বদলী আদেশে তোলপাড় নরসিংদী জেলা প্রশাসন নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠিত : আউয়াল সভাপতি, সজল সম্পাদক
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

পুলিশ-বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ধর্ষণ ঘটনায় সালিশ ॥ ক্ষোভে কিশোরীর গলায় ফাঁস

স্টাফ রিপোর্টার / ৮৪ বার
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

107

বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীর বাড়ীতে যাচ্ছেন। আর নরসিংদীতে বিএনপি নেতারা ধর্ষণ ঘটনায় প্রকাশ্যে সালিশ করছেন।  বিএনপি নেতা ও পুলিশের উপস্থিতিতে ধষর্ণের ঘটনায় সালিশ চলাকালে ক্ষোভে  গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে নরসিংদীর সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিশোরীকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক  তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন ।

প্রত‍্যক্ষদর্শী ও সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে জানা যায়, চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকার এক কিশোরীর পাশ্ববর্তী শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওই কিশোরীর বাবার বাড়ির প্রতিবেশি প্রাইভেটকার চালক নাইম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলো। ওই কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে স্বামীর সাথে ডিভোর্স করিয়ে নাইম তোলে নিয়ে আসে। পরে  বিয়ের প্রলোভনে নাইম ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধষর্ণ করে আসছিলো। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী  কিশোরী ও তার পরিবার নাইমকে বিয়ের জন‍্য চাপ দিতে থাকে। নাইম বিয়ে করতে অস্বীকার করলে কিশোরীর পরিবার আইনী সহযোগিতা নিতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মিমাংসা করে দিবে বলে জানায়।

নাইমের মামা মোস্তফা  ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হওয়ার কারনে, নীরিহ কিশোরির পরিবার উপায়ন্তর না পেয়ে সালিশিতে রাজি হয়। পরে শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক  আওলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ একাধিক নেতার উপস্থিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেখানে একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। সালিশ দরবারে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ  বিয়ের পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকায় মিমাংসা করার প্রস্তাব উঠায় । এ খবর কিশোরি জেনে দরবার চলাকালেই ঘরের দরজা আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহতার চেষ্টা করে । এসময় পরিবারের লোকজন ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে, অজ্ঞান অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন । সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিওতে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিশোরী জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে।
অভিযুক্ত নাইম একই এলাকার শফিকুলের ছেলে। সে পেশায় প্রাইভেটকার চালক।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, নাইম  আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। আমার মেয়েকে গত এক বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে বিয়ের কথা বললে সে  তালবাহানা করতে থাকে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।  মানুষ তাকে নিয়ে বাজে কথা বলায় সে বাহিরে যেতে পারতো না। আজকে দরবারে তারা বিয়ের কথা না বলে প্রথমে ২০ হাজার, ৩০ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মিমাংসার কথা বলে। একথা শোনে মেয়ে ক্ষোভে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার  চেষ্টা করে।  এখন সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।  আমি থানায় আগেই  লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম কিন্তু বিচার পাইনি। আমি এঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি।

জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক  আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমি অল্প সময়ের জন্য  দরবারে গিয়েছিলাম,  ছেলে ও মেয়ের কথা শোনে জরুরি কাজ থাকায় চলে এসেছি।  পরে জানতে পেরেছি,  দরবারে এগারো জনের একটি বোর্ড বসেছিলো। তারা সকলের কথা শোনে ৮ জন বিয়ের পক্ষে ও তিন জন টাকা দিয়ে সমাধানের পক্ষে মতামত দেয়। এর মধ্যে কেউ টাকা দিয়ে সমাধানের বিষয়টি জানালে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে দরবার থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

ধর্ষণ সালিশ যোগ্য কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি উভয়পক্ষের অনুরোধে গিয়েছিলাম। যেখানে এলাকার অনেক মানুষ ছিলো

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক  ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় ফাঁস নেওয়া এক কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।  তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

চিনিশপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. ইসহাক মিয়া বলেন, সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় সালিশে আমি ছিলাম না তবে মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্য ছিলো। কিন্তু সালিশে নিজের উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে এসআই মো. ইউনূস। তিনি জানান, আমি ঘটনার খোঁজ খবর নিয়েছি। কিন্তু সালিশে ছিলাম না।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, সালিসে আমাদের কোন পুলিশ সদস্য ছিলো না। আমরা শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় একটা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ