শিরোনাম :
নরসিংদীতে জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ: আদালতে মামলা ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংকের ক্যাম্পেইন নরসিংদী জেলা প্রশাসকের উদাসীনতা : যে কোনো সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা একজন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া…….. নরসিংদীতে হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান ১২ দালাল আটক সরকারী প্রত্যেকটি দপ্তরে হয়রানী মুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে : নরসিংদী জেলা প্রশাসক শিক্ষার মান বজায় রেখে সঠিক মানুষ গড়ার কারখানা ইনডিপেনডেন্ট কলেজ : মনজুর এলাহী, এমপি মেঘনা গ্রুপের রাক্ষসী থাবা ২ : লীজ প্রাপ্ত না হয়েই মাটি ভরাট আমার বন্ধু মহাজাদু জানে….. নরসিংদীতে অনুমোদনহীন মোটরসাইকেল সংযোজন কারখানা : সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন

একজন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া……..

এ বি এম আজরাফ টিপু / ১২৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

167

একজন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। যি ছিলেন একজন দুর্দান্ত প্রতাপশালী রাজনীতিবিদ। সমকালীন সময়ে এমন রাজনীতিবিদ দেখা যায় না।
তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) এর নেতা। ছাত্র রাজনীতির পরবর্তী জীবনে তিনি যে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন –
১.ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ ভাসানী গ্রুপ
২. পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি
৩. ইউনাটেড পিপলস পার্টি
৪. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবেও সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন –
ছাত্র ইউনিয়ন দিয়ে তার ছাত্র রাজনীতির যাত্রা শুরু। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পরীক্ষার আগে তাকে গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়।
১৯৬০ সালে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া নরসিংদী কলেজ ছাত্র সংসদে সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ১৯৬২ সালে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৪ – ৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার মান্নান ভুইয়া –
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নরসিংদীর শিবপুরসহ বিশাল এলাকা জুড়ে তিনি মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি অত্র অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতোই বিএনপির পক্ষ থেকে একজন অন্যতম রূপকার ছিলেন। ছিলেন সাত দলীয় ঐক্য জোটের সমন্বয়কারী দলের সদস্য। ১৯৮৮ সাল থেকেটানা সাড়ে ৮ বছর আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাকে দলের মহাসচিব মনোনীত করেন। এর পর থেকে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে ছিলেন বলেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। তিনি নরসিংদী-৩ আসন থেকে পঞ্চম, যষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পঞ্চম মহাসচিব হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্বও পালন করেন।
আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া পরলোকগমন করেন ২০১০ সালের ২৭ জুলাই।
পারিবারিক ও ব্যক্তিজীবনে মান্নান ভূঁইয়া বিবাহিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মরহুম অধ্যাপিকা মরিয়ম বেগম। মরিয়ম বেগম ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষা ছিলেন। এই দম্পতি দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে ভূঁইয়া অনিন্দ মোহায়েমেন রাজন এবং ছোট ছেলে ভূঁইয়া নন্দিত নাহিয়ান স্বজন।
মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের আসাদ নগর গ্রামে। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার পর শিবপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও নরসিংদী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রির পাশাপাশি মান্নান ভূঁইয়া এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেছিলেন। তবে আইন পেশায় না গিয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন তিনি।
ছাত্রজীবন শেষে মান্নান ভূঁইয়া মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এ যোগ দেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। গ্রামাঞ্চলে অবহেলিত কৃষকদের উন্নয়নে তার নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো। ন্যাপ থেকে মান্নান ভূঁইয়া ১৯৭৮ সালে ইউনাটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কয়েক বছর তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৮০ সালে মান্নান ভূঁইয়া বিএনপিতে যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহবায়ক মনোনীত করেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন। ১৯৮৮ সালে থেকে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের শ্রম ও জনশক্তি এবং পরে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। জোট সরকারের তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ছিলেন। ১/১১ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জরুরি অবস্থার সময় দলের পক্ষ থেকে সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করলে খালেদা জিয়া ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহাসচিব পদ এবং দল থেকে মান্নান ভুঁইয়াকে বহিষ্কার করেন।
মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্যময়। ছাত্রজীবনে রাজনীতি করে তিনি সাফল্যের মুখ দেখেছিলেন।
জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে সফল হয়েছিলেন। তবে তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের সময় বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচিত হন তিনি।
তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতা মরহুম আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, যার নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে স্বর্নালী অক্ষর। তাঁর মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধাভরে স্বরন করি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ