প্রায় দুই দশক পর দেশে ফিরেই চমক দেখালেন এবং ভাগ্যের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটালেন। এ সময়ে তার দলের উপর চরম অত্যাচার, নির্যাতন, দমনপীড়ন চালানো হয়। সেই দলকে তিনি নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতায়। তাও ভূমিধস বিজয় দুই- তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়। তিনি আর কেউ নন, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০৮ সালে তিনি যখন বাধ্য হয়ে নির্বাসনে যান, তখন অনেক বাংলাদেশী মনে করেছিলেন তার রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। রাজনৈতিক বংশের সন্তান হিসেবে এবং একটি দূর্নীতিগ্রস্ত শাসন ব্যাবস্থা’ হিসেবে পরিচিত দেশে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অনেকেই ভেবেছিলেন, অবশেষে তিনি জবাবদিহিতার মুখে পড়েছেন। কিন্তু দেখালেন চমক। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে এমন সব মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া।
ফ্রম এক্সাইল টু পাওয়ার: ‘দ্য রাইজ অব বাংলাদেশজ নিউ লিডার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরেন তারেক রহমান। তখন দেশ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ছাত্র জনতা নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের পর এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমান নিজেকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরে তার দলকে ভূমিধস বিজয়ের পথে নিয়ে যান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শক্তিশালী গণতন্ত্র, দুর্নীতি হ্রাস এবং অধিক সুযোগ সৃষ্টি করবেন। তবে কিছু ছাত্রের আশঙ্কা, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী দুই পরিবারের মধ্যেই আবার ক্ষমতার দোলাচল চলছে।
গত শুক্রবার ভোট গণনা চলাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায় তার দল বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এ ফলাফল অনেকটাই অনুমিত ছিল। কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পর প্রায় ৫৫ বছরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনের আগে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা পরবর্তী সরকার গঠন করবো।
নির্বাচনকালীন প্রচারণায় তিনি ছাত্রদের দাবির প্রতি সরাসরি সাড়া দেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা দেন। বিএনপি’র ইশতেহারে ছিল নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মতো প্রগতিশীল প্রতিশ্রুতি।
পাকিস্তানের জিও নিউজের শিরোনাম ‘পাকিস্তান সিকস টু বোলস্টার ব্রাদারলি টাইস উইথ বাংলাদেশ আফটার বিএনপি’স ভিক্টোরি’। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা ঢাকায় ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালে জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। গত বছর থেকে দুই দেশ সমুদ্রপথে বাণিজ্য শুরু করেছে এবং সরকার-টু-সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে দীর্ঘ বছর পর বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।
বিএনপির এই ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানের উপর অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেছে। তার ঘোষিত ৩১ দফা সহ, নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত মেনোফেষ্টো বাস্তববায়ন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা তিনি এব্যাপারে সফলকাম হবেন। তবে ভবিষ্যৎই এর উত্তর দিবে।