শিরোনাম :
মাধবদীতে সৎ শ্বাশুড়ী কর্তৃক পুত্রবধূকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন : তারেক রহমান খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতিসংঘের শোক শিবপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, আসাদ সভাপতি, মাহবুব খান সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত নরসিংদীর ৫ টি আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন নরসিংদী শিবপুর আসনে বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহীর মনোনয়ন জমা আড়াইহাজারে নোয়াগাঁও মোজাম্মেল হক হাইস্কুলের বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার বিতরণ নরসিংদীতে হাদির হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

৭১’ সালেই তাদের দেখেছে : তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার / ১১৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

25

জামায়াতে ইসলামীকে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কোনো কোনো গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লাখ লাখ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি তাদের সহকর্মীরা কিভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে। গত রোববার রাজধানীর ফার্মগেইটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। 
জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছু কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠী ইদানিং বলতে শুনেছি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কিভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজারো হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। যাদেরকে কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন না, তাদেরকে দেশের মানুষ ৭১ সালেই দেখেছে, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লাখ লাখ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি তাদের সহকর্মীরা কিভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এখন যার মালিক আমি বা তুমি কেউ না। তার কমিটমেন্ট কি আমরা দিতে পারি? তার কমিটমেন্ট আমরা দিতে পারি না। যা আমাদের সাধ্যের বাইরে। এখানে আমরা মুসলমান আছি। অন্য ধর্মের মানুষ এখানে উপস্থিত আছে। মুসলমান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এই পৃথিবীতে এবং পৃথিবীর বাইরে যাবতীয় যা কিছু আছে, আমরা যা কল্পনা করি যা কল্পনা করতে পারি না- সকল কিছুরও মালিক একমাত্র আল্লাহতা’আলা। একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আমরা শুনেছি, কিছু রাজনৈতিক দলের, কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আমি যতটুকু বুঝি, অনেক মুরুব্বি ব্যক্তি আছেন, বুজুর্গ ব্যক্তি আছেন- ধর্মীয় বিষয়। আমি একজন সাধারণ নরমাল একজন মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি, যা আমার না- আমি যদি তা দেবার কথা বলি। অর্থাৎ যেটি আমার না, সেটির কমিটমেন্ট যদি করি তাহলে আমি তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি। 
তারেক রহমান বলেন, অর্থাৎ দোযোগ, বেহেশত দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ। যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে। সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই, আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে, সেটি হচ্ছে শিরিক। সেটি হচ্ছে শিরিকের পর্যায়ে পড়ে। কাজেই তোমাদেরকে ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে যারা এসব কথা বলে তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তাআালার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। 
তিনি বলেন, কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কি হবে, পরকালে কি হবে, তা ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আমরা পৃথিবীতে মানুষ হিসাবে মানুষের দেখভাল, যতটুকু সম্ভব আমাদের দৃষ্টি থেকে আমরা করতে পারব। আমাদের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী করতে পারবো। আমরা এ কালেরটা করতে পারবো। এ কালেরটা কম বেশি আমরা মানুষ হিসেবে যা আমাদেরকে ক্ষমতা আল্লাহ দিয়েছে, তার  ভেতরে করতে পারব। যা ক্ষমতার বাইরে তা আমরা করতে পারবো না। কাজেই যারা এসব কথা বলে, তারা ইনেবে শিরিক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদেরকে পৌঁছে দিতে হবে। 
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দু;জন ব্যক্তি সেই সময় আমাদের সঙ্গে সরকারের ছিল। এই দু’জন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই। দু’জনই সিনিয়র মানুষ। দু’জনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন। তারা গত হয়েছে। কাজেই যে মানুষ নেই তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পুরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই, এই দু’জন ব্যক্তি বিএনপির সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা প্রমাণ করে দেয়, তাদের পূর্ণ কনফিডেন্স ছিল যে ছিল খালেদা জিয়ার উপরে, যে খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। সেজন্যই তারা শেষদিন পর্যন্ত ছিল। এজন্যই তারা শেষদিন পর্যন্ত ছিল। এখন তাদের দলের অন্য যে যত বড় বড় কথা বলি কিনা কেন, খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং দুর্নীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এই আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল। তারা দেখেছিল সেই সরকারকে, কারণ তারা সরকারের ভেতরেই ছিল। সেজন্যই তারা শেষদিন পর্যন্ত  বিএনপি সরকারের সঙ্গে তারা ছিল। আমরা এইভাবেই ধরে নেব, আমরা অন্য কিছু বলতে চাই না।
তিনি বলেন, আমি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বলে আসছি, আমাদের সামনে সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়। সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র বিভিন্নভাবে হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এদেশের জনগণ। এই ষড়যন্ত্র দেশের জনগণকে সঙ্গে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। 

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ