
চেতনা রিপোর্ট: শিক্ষাখাতে সাফল্যের এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল এন্ড হোমস্। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩ শত বিশ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পাওয়ায় দেশজুড়ে চলছে আলোচনা। কিন্তু এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পেছনেই রয়েছে ব্যবসায়িক কারসাজি ও অনৈতিকতার গুরুতর অভিযোগ। গৌরবময় এই ফলাফলের পেছনের গল্প আসলে কী?
উৎসবের আমেজ আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন কৃতি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে অনেক বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দীর্ঘশ্বাস আর ক্ষোভ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মেধার প্রতিফলন নয়, বরং দুর্বল শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিতভাবে ছেঁটে ফেলে সুনাম ধরে রাখার এক নিখুঁত ব্যবসায়িক কৌশল। প্রশ্ন উঠেছে, নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা সকল শিক্ষার্থী কি চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে?

মেধার ভিত্তিতে সন্তানকে ভর্তি করলেও ১০ বছর পর তাকে মেধাহীন বানিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিলেন। এই দায়ভার কে নেবে? এমনি অভিযোগ ভুক্তভোগী অভিভাবকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ফেল দেখিয়ে ও অর্থের বিনিময়ে অন্য স্কুলে ভর্তির চাপ দিয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাদ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ভালো ও মেধাবী ছাত্রছাত্রী নিয়ে সেরা ফল করা সহজ, কিন্তু দুর্বলদের গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের আসল কৃতিত্ব। তাদের মতে, এ ধরনের ‘মেকি’ ফলাফল শিক্ষার নামে এক অনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত পরিশ্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার এই গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলার সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগী অভিভাবকরা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব মানুষ গড়া। শুধু সেরা ফলাফল নয়।একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে এখন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে কবে, কখন প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে নরসিংদীবাসী।