সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে জনসাধারণ চলাচলের রাস্তা সরু করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুটি পরিবারের বিরুদ্ধে।
নরসিংদী শিবপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দরবার সালিশ মানছেন না অভিযুক্ত পরিবার।
সরেজমিনে দেখা যায় পুটিয়া-জাঙ্গালীয়া আঞ্চলিক সড়কের আলীয়াবাদ পূর্বপাড়া এলাকায় মনু বেপারীর বাড়ী থেকে আবুল হোসেনের বাড়ী পর্যন্ত ৬ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা ৫০ বছরেরও অধিক সময় ধরে ব্যবহার করে আসছেন এলাকাবাসী। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে রাস্তায় ইটের সলিং বসানো হয়েছিল। সম্প্রতি অভিযুক্ত জামান ও নাসিরুদ্দিনের পরিবারের লোকজন রাস্তার কিছু অংশের ইট তুলে দুপাশ থেকে ৫ ফুট রাস্তা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। এতে করে রাস্তা সরু হয়ে এক ফুট প্রশস্ত আছে। এই এক ফুট রাস্তা দিয়ে আলীয়াবাদ পূর্বপাড়া মহল্লার একাংশ লোকজনের চলাচল করতে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী লোকজনের স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, ঈদগাহ ও কবরস্থানে যাতায়াত করার রাস্তা এটি।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অনুরোধে স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন দরবার সালিশ করে পুর্বপুরুষের ব্যবহৃত এই প্রাচীন রাস্তাটি উম্মুক্ত করে দেয়ার কথা বললেও অভিযুক্ত পরিবারের লোকজন মানছেন না।
ভুক্তভোগী সামসুন নাহার জানান, আমার ও আমার চাচার জমি আছে এই রাস্তায়। জামান ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে সোয়া নয় শতাংশ দখল করে৷ সীমানা প্রাচীর দেয়। আমি বাধা প্রদান করলেও মহিলা মানুষ বলে সে কোন কর্ণপাতই করেনি।
আরেক ভুক্তভোগী কিরণ ভুইয়া বলেন, এতোদিন জামান ও নাসিরুদ্দিনের পরিবার এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতো। কিন্তু পশ্চিম দিকে আরেকটি নতুন রাস্তা হওয়ায় এখন সেদিক দিয়ে চলাচল করে। আমাদেরকে বেকায়দায় ফেলতে ঈর্ষান্বিত হয়ে, তারা জমিতে সীমানা প্রাচীর তুলে রাস্তা সরু করে দিয়েছে।
রেজাউল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা ৬ ফুট প্রশস্ত ছিলো, এখন এক ফুটও নেই। এখান দিয়ে একজন একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে যেতে পারেনা। কেউ মারা গেলে তার লাশ নিয়ে কবরস্থানে যেতে হলে অন্য মহল্লা দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। তাই আমাদের এতোগুলো পরিবারের লোকজনকে চলাচল করার জন্য রাস্তাটি প্রশস্ত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জামান ও নাসিরুদ্দিনকে পাওয়া না গেলে ও তাদের পরিবারের লোকজন জানান, এতোদিন আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করে, তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে চলাচল করতাম। তারা আমাদের অনেক বিরক্ত করতো।
এখন নতুন রাস্তা হওয়ায় আমরা সেটি ব্যবহার করি, আমাদের সেই রাস্তার প্রয়োজন নেই, তাই আমাদের জমিতে আমরা সীমানা প্রাচীর দিয়ে দিয়েছি।