নরসিংদী শহরের শাপলা চত্বরে অবস্থিত মসজিদটি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় রয়েছে। এলাকার মুসল্লীদের অনুরোধে সদরের এমপির উদ্যোগে মসজিদটি খুলে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে হঠাৎ একটি কুচক্রি মহল মসজিদটির তালা খুলে দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও আলেম সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা যায় গত ১৫ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় শাপলা চত্বর বাজার কমিটির কথিত সভাপতি মাঈন উদ্দিন প্রধান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবী করে মসজিদটি দখল করে নেন বলে একাধিক আলেম ওলামা ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মসজিদ পূর্ণ নির্মিত হওয়ার পরপরই কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ২০১৬ সাল থেকে দীর্ঘ ৭ বছর বন্ধ রয়েছে মসজিদটি। দোতলা বিশিষ্ট মসজিদটির নিচতলায় রয়েছে মার্কেট। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা, এই মার্কেটের দখলদারিত্ব নিয়েই শুরু হয় দ্বন্দ। সে থেকে হঠাৎ করেই মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মসজিদের মেইন গেইট তালাবদ্ধ করে মুসুল্লিদের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সহ আলেম ওলামারা বহুবার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। এ নিয়ে স্থানীয় মুসুল্লী ও এলাকাবাসী সাবেক মেয়র কামরুজামান কামরুল সহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়েও এ বিষযে কোনো সুরাহা করতে পারেননি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আসে। তিনি গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা করে, মসজিদটি আগামী ১৭ জানুয়ারী বুধবার জোহর নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার ফলে এলাকাবাসী ও মুসুল্লিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্ত একটি কুচক্রী মহলের ইশারায় মাইনুদ্দিন প্রধান মসজিদটি নিজেদের দখলের নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ ব্যাপারে আলেম সমাজ ও মুসুল্লিরা বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এ নিয়ে আর কোন অপচেষ্টা মেনে নেয়া হবে না।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য বন্ধ হওয়া মসজিদে বুধবার জোহরের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদটি মুসুল্লিদের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষনা দেয়ার পরই, স্থানীয় যুব সমাজ ও মুসুল্লিরা স্বেচ্ছায় মসজিদের ভিতর ও চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় নেমে পরেন। এমন সময় হঠাৎ করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই গত সোমবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে কথিত মাঈন উদ্দিন প্রধানের নেতৃত্বে কিছু লোক জড়ো করে মসজিদের ভিতর প্রবেশ করেন এবং আজানের মধ্যদিয়ে এশার নামাজ আদায় করেন। হঠাৎ করে তার এই নামাজ আদায়কে ঘিরে জনমনে না প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মসজিটি স্থানীয় সংসদ সদস্য খুলে দেওয়ার ব্যবস্হা গ্রহণ করায় প্রতিপক্ষরা তা সহজে মেনে নিতে পারছে না। তাই তারা মাঈন উদ্দিনকে ব্যবহার করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। পাশাপাশি শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার পায়তারা করছেন বলেও অনেকে মনে করছেন।
এদিকে অভিজ্ঞজনরা মনে করেন, মসজিদের ব্যাবস্থাপনা প্রশাসনের হাতে নেয়া দরকার। তা হলেই বন্ধ হবে, মসজিদের নামে ব্যাবসা।