পারিবারিক বিরোধের আক্রোশে, অসহায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী ও তার স্বামী পরিত্যক্ত বোনের তিন ফসলি জমি ও ফসল নষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ইসমাইল মোল্লা রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানাযায়,নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের বরদকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য কামাল মোল্লার সাথে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে, একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী ইসমাইল মোল্লার পরিবারের সাথে। সেই বিরোধের জেরে বরদকান্দি গ্রাম থেকে ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রাম ও স্কুল মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য তিনটি বড় ধরনের পাকা আধাপাকা রাস্তা থাকা স্বত্তেও ইসমাইল মোল্লা ও তার স্বামী পরিত্যক্ত বোনের জমির উপর দিয়ে,মোল্লা বাড়ী ব্রীজ থেকে বিলের ধার পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ করার প্রয়াস চালায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী সাবেক চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বৈঠক করে, এই রাস্তার অপ্রয়োজনীয়তার কথা জানালেও কর্ণপাত করেনি কামাল মেম্বার। এলাকাবাসীর কথা উপেক্ষা করে, জোরপূর্বক ভেকু দিয়ে ১০-১৫ ফুট গভীর করে জমি কেটে রাস্তা তৈরী শুরু করেন।
এতে করে জমির ফসল সরিষা, পিয়াজ ও মরিচ নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী ইসমাইল মোল্লা গত ১ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত “মোল্লা বাড়ী ব্রীজ থেকে বিলের ধার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ” সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল সহ ব্যাখা প্রদানের তলব করেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে।
ভুক্তভোগী ইসমাইল মোল্লা বলেন, আমি সরকারি কর্মচারী ছিলাম। অবসরপ্রাপ্ত হয়ে এই তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ করছি, কিন্তু কামাল মেম্বার আক্রোশে আমার জমির ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এমনভাবে কেটেছে এখানে ফসল সম্ভব হবে না। এই রাস্তার কারনে আশেপাশের সকল জমিতে জলাবদ্ধতা থাকবে, তখন তিন ফসলি নয়, এক ফসল করতেই হিমশিম খেতে হবে।
ইসমাইল মোল্লার বোন মোর্শেদা বেগম বলেন, স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকে, পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া এই জমিটা ছিলো আমার সম্বল। এই জমির ফসলই আমার জীবিকা নির্বাহের বড় অংশ। পারিবারিক বিরোধে আমার এই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুষ্ঠু বিচার চাই।