শিরোনাম :
ইউপি সদস্যের আক্রোশে তিন ফসলি জমি ও ফসল নষ্ট করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আস্থার প্রতীক: এগিয়ে চলছে নরসিংদী সদর প্রেস ক্লাব মেঘনায় ২০ হাজার কোটি টাকার বালু লুট: মূল হোতা মিন্টু কমিশনার , তারেক ও নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট শিবপুরে মাধ্যমিক পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা শীতার্তদের পাশে ‘ফিরোজা আরিফ’ পরিবার নরসিংদীর ৫ টি আসনে লড়বেন যারা শিবপুরে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করায় জরিমানা আদায় শিবপুর প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল নরসিংদীর মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার মাধবদীতে সৎ শ্বাশুড়ী কর্তৃক পুত্রবধূকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

মেঘনায় ২০ হাজার কোটি টাকার বালু লুট: মূল হোতা মিন্টু কমিশনার , তারেক ও নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট

স্টাফ রিপোর্টার / ৪৭ বার
আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬

63

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও নরসিংদীর রায়পুরা সংলগ্ন মেঘনা নদীকে অবৈধ বালু উত্তোলনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগ নেতা ভৈরবের মিন্টু কমিশনার এবং মির্জাচরের যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম গংদের নেতৃত্বে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এই চক্রের হাত থেকে নদী ও জনপদ রক্ষায় এবার চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনতা।

​যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান : গত ৮ জানুয়ারি নাছিরাবাদ বালুমহালে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকারের নেতৃত্বে একটি বিশাল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে হাতেনাতে ৪ জন ড্রেজার শ্রমিককে আটক এবং ২টি বিশালাকায় ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ইজারার তোয়াক্কা না করে চরলাপাং মৌজাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে বালু লুট চলছিল।

​ভয়াবহ লুটপাটের নেপথ্যে যারা : অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম (মির্জাচর), হান্নান (নীলক্ষা) এবং বিএনপি নেতা তারেক (ভৈরব) সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদের মূল গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত ভৈরবের কুখ্যাত মিন্টু কমিশনার।

​এই চক্রের অপরাধের খতিয়ান:
​পরিবেশ ও সম্পদ ধ্বংস: আড়াই শতাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলায় শত শত একর ফসলি জমি, মসজিদ ও মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
​টর্চার সেল: ভৈরবে মিন্টু কমিশনারের মালিকানাধীন ‘জান্নাত হোটেল’ ছিল মূলত একটি টর্চার সেল, যেখানে বিরোধী মতাদর্শীদের ওপর নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, এই আয়ের একটি বড় অংশ সাবেক এমপি নাজমুল হাসান পাপনের পকেটে যেত।

​প্রশাসনের ওপর হামলা: এই চক্রের সদস্যরা ইতিপূর্বে মোবাইল কোর্টের ওপর গুলি বর্ষণ এবং আশুগঞ্জের ইউএনও-কে লাঞ্ছিত করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।

​গণমাধ্যমকে হুমকি: সত্য প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

​জনরোষ ও প্রশাসনের আলটিমেটাম :
​বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এই লুটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মেঘনাপাড়ের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দাবি করেছে, অবিলম্বে লুটের ২০ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে এবং স্থায়ীভাবে ড্রেজিং সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।

​প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালু সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ