আসছে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাজছে ভোটের দামামা। নির্বাচনী আলোচনায় মেতে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জ এমনকি রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের আড্ডায়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে আলোচনার মাত্রাও ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বহুবছরের মিত্র দুই দল বিএনপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে।
আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন পর বিএনপি তাদের ঘাঁটি পুণর্দখল করতে মাঠে নেমেছে। তবে তাদের ঘাঁটি দখলে আনতে বেগ পেতে হতে পারে।
কারণ ২টি আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সহ ইসলামিক দলগুলো জোট হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোট ৪৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন ৩৮ জন। ৮ জন বিভিন্ন কারনে বাতিল বলে গণ্য হয়েছেন। যদিও এখনো আপীলের সময় রয়েছে। কেউ আপীল না করলে নরসিংদীর ৫ আসনে ভোটের মাঠে লড়বেন ৩৮ জন।
অধিকাংশ তরুণ ভোটার মনে করেন, এবারের ভোট হবে তারুণ্যের শক্তি। নতুন ও তরুণ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমেই যোগ্যব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি যারা আমাদের জন্য কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণের চিন্তা করেন তাদেরকেই ভোট দিবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী ওসমান বলেন, এবারের ভোট হবে চিন্তা ও ভাবনার। যারা দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করবে পাশাপাশি বৈষম্য দূর করে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করতে পারবে তাদেরকেই ভোট দেবে।
নরসিংদী-১ (সদর): স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে এই আসনে জয় পেলেও এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের নেত্রী এডভোকেট শিরিন আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাখাওয়াত হোসেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরআশরাফ হোসেন ভুইয়া, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরীসহ মোট সাতজন প্রার্থী হয়েছেন।
নরসিংদী-২ (পলাশ): আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দুই হেভিওয়েট নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া আছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন। আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সম্প্রতি নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ এখানে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফারুক ভূঁইয়া পাঁচজন প্রার্থী মাঠে আছেন।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর): আসনটিতে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীর বিপরীতে রয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া পরিষদের সদস্য সচিব, শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম মৃধা। এ ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জাকের পার্টির আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান,গণফোরামের জগলুল হায়দার,জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম বাসেত, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রায়হান মিয়া ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওমায়েজ হোসেন ভুইয়াসহ নয়জন।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) : এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জাহাঙ্গীর আলম। জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাইফুল্লাহ,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাসিরউদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মিলন মিয়া, জনতার দল থেকে আবু দার্দ্দা মো:মার্জ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী সাজ্জাদ জহিরসহ আটজন লড়াই করবেন।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা): এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে জটিল। বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহাম্মদ চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের বদরুজ্জামান উজ্জ্বল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার,জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খান হেনা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, জামায়াতের সাবেক নেতা মুহাম্মদ পনির হোসেন,মো. সোলায়মান খন্দকার ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।