গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার দুপুরে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা ও বাংলা সাহিত্যে অশ্লীলতার অভিযোগে বাংলাদেশের প্রগতিশীল কবি ও কলামিস্ট মামুন আশরাফী’র নরসিংদীস্থ বাড়ীতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে একদল বিক্ষুব্ধ “তৌহিদী জনতা”। তারা সম্মিলিতভাবে কবির বাড়িতে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র সহ সবকিছু ভাংচুর করে।
তারা ঘোষণা দেয় যে এই নাস্তিক আর অশ্লীল কবিকে বাংলাদেশের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। এটি মুসলমানদের দেশ। অতীতে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তারা কেউ এদেশে থাকতে পারে নাই। তৌহিদি জনতা এইসব নাস্তিক লেখকদেরকে উচিৎ শিক্ষা দিয়েছে। আর তাই বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আর নাস্তিক কবির কোন স্থান হবে না। এসময় কবি ও তার পরিবার তাদের বাড়ীতে ছিলেন না বলে তারা প্রাণে বেঁচে গেছেন। জানা গেছে, কবি ও কবিপত্নী বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অমর একুশে বইমেলায় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ” অসমাপ্ত চুম্বন” প্রকাশের পরপরই তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও সাহিত্যে অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে এবং তিনি ধর্মীয় মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের হুমকির সম্মুখীন হন।
২০২৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “রত্নগর্ভে নপুংসক ভ্রূণ” প্রকাশিত হওয়ার পর কবি মামুন আশরাফী ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। কারণ এই গ্রন্থের কবিতায় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের সরকার, সেনাবাহিনী, দেশের স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দল, কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা করেন। এতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও ধর্মীয় মৌলবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার জোরালো অভিযোগ করে এবং অনতিবিলম্বে তার ফাঁসী দাবী করে।
২০২৫ সালে কাব্যগ্রন্থটি দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হলে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী তথা আওয়ামী লীগের দোসর ও ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তার উপর হামলা করা হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার উপর হামলার বিষয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু যে কোন সময় ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আবারও তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা করতে পারে বলে তিনি আশংকা করে আসছিলেন।