শিরোনাম :
নরসিংদীর পলাশে বিএনপি নেতার মদদে মাদক ব্যবসা সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আলোচনার শীর্ষে নীশিতা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ডা. এফ এম সিদ্দিকী বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি আফজাল, সম্পাদক মাহবুব নরসিংদীতে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার মনজুর এলাহী এমপিকে ফুলেল শুভেচছা জানালেন পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মৃতপ্রায় সিএনজি চালককে বাঁচিয়ে প্রশংসনীয় ইউএনও আসমা জাহান সরকার নরসিংদীতে বই মেলায় সম্মাননা পেলেন কবি জাকির মুরাদ সেবা প্রদানকারী দপ্তর প্রধানদের সাথে মতবিনিময় করেছেন খায়রুল কবির খোকন মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

১৬ জুন গনতন্ত্রের কালো দিবস

এ বি এম আজরাফ টিপু / ৬১৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

216

১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিবস। এদিনে তৎকালীন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী সব দল নিষিদ্ধ করে চরম কর্তৃত্ববাদী একদলীয় বাকশাল কায়েম করে শুধু মাত্র তাদের অনুগত ৪টি সংবাদপত্র রেখে গোটা জাতিকে নির্বাক করে দিয়েছিলো। ফলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদ কর্মী বেকার হয়ে পড়েছিলো। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল বাংলাদেশের ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। চিরায়ত গণতন্ত্রে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং যার মূল শর্ত হচ্ছে বাক, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকায় রাষ্ট্র ও সমাজ জবাবদিহিতার আওতায় আসে এবং দেশের সরকার গঠনে নাগরিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। হয়ে উঠে গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলাকে স্তব্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করে। পরবর্তীকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের কাংখিত বহুদলীয় গণতন্ত্র পুন:প্রবর্তন করেন। বাকশাল সরকারের সকল প্রকার অগণতান্ত্রিক কালাকানুন বাতিল করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুন:প্রতিষ্ঠিত করেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ মূলত: চিন্তা ও বিবেককে বন্দী রাখা। শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তার মেয়ে শেখ হাসিনাও একই পথ ধরে তাদের প্রকৃত দর্শণ একদলীয় ব্যবস্থার পুন:প্রবর্তন করেছিল নতুন আঙ্গিকে। নানা কালাকানুন প্রণয়ন করে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের ওপর অব্যাহত জুলুম চালিয়েছে তারা। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সত্য উচ্চারণ করলেই নেমে আসত নির্যাতনের খড়গ। বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল পর্যায়ের মানুষকে সার্বক্ষণিক শংকিত থাকতে হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্টের মতো একের পর এক ‘ড্রাকোনিয়ান আইন’ প্রণয়ন করে সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভয়াল দূর্গে বন্দী করা হয়েছিল। বিগত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করলেও এখনও ফ্যাসিবাদ শক্তির হাত থেকে গণমাধ্যম পুরোপুরি মুক্ত হয়নি।
আমরা সকলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদান। গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব দিতে হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ