নরসিংদীর রায়পুরায় ২শ’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির (এসএমসি) অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রায় ছয় মাস ধরে ঝুলে আছে। কমিটি গঠনের কাগজপত্র দপ্তরে জমা দেওয়ার পরও অনুমোদন না পাওয়ায় বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য ও অভিভাবকেরা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করে কাগজপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু এখনো অনুমোদন না পাওয়ায় নতুন কমিটির সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের জবাবদিহি ও শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ মার্চের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এসএমসি গঠনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি নির্বাচনের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এসএমসি অনুমোদন করবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সকল কার্যক্রম শেষ করার কথাও বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের নির্দিষ্ট শেষ সময়ের তিনমাস পেরিয়ে গেলেও অনুমোদনহীন ২শ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি। ফলে কমিটির অনুমোদন আটকে থাকায় এসব কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রজ্ঞাপনে রয়েছে, এসএমসি কমিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কমিটি অনুমোদনের তারিখ থেকে মেয়াদ হবে তিন বছর।
একটি বিদ্যালয়ের এসএমসি সদস্য সুরাইয়া বলেন, ‘অনেক দিন আগে কমিটি গঠন করে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মনে হয় কমিটি অনুমোদন না হওয়ায় বিদ্যালয়ে গেলে আমাদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের ইচ্ছামতো চলছেন।’
এসএমসির সভাপতি এস এম শরীফ বলেন, ‘কমিটির অনুমোদন না থাকায় সঠিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকরা আমাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিতে চান না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে বৃত্তি ও বার্ষিক পরীক্ষা। এ সময়ে সঠিক নির্দেশনা ও তদারকি না থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেকেই আমাকে ফোন করে কমিটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চান।’
এসএমসি সভাপতি সুহেরা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন আগে কমিটি গঠন করে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে উদাসীন মনে হচ্ছে।
এসএমসির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন, মিঠু, হুমায়ুন কবির, ফকরুল হাসান, মুমেন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন কাওছার ও এনামুল হাসানসহ অনেকে জানান, কী কারণে কমিটিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না, তা জানিনা।
দীর্ঘদিন এভাবে কমিটি অনুমোদনহীন থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কমিটির অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।
রায়পুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘স্কুল ম্যানেজিং কমিটির প্রায় ৯৫ শতাংশ হয়েছে। কমিটিগুলো সঠিক আছে কি না তার জন্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এমপি মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটি হয়েছে আমরা যোগাযোগ করেছি শীগ্রই স্যার আমাদের দেবেন। ৩০ জুন ধরেই কাজ করেছি। অনেক স্কুলে সদস্য নির্বাচনে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়ার ফলে দেড়ি হয়। এটা অনেক সময় ম্যান্টেই করা সম্ভব হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে যবে। কমিটি না হওয়ায় কারনে যদি কোনো শিক্ষক উদাসীন থেকে এই রখম যদি পাই উনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নিবো।’
তবে যাচাই-বাছাই কবে শেষ হবে এবং বিদ্যালয়গুলোতে কবে নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষা অফিসারকে দ্রুত কমিটি গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।
সম্পাদক: এবিএম আজরাফ টিপু,
মোবাইল : ০১৯১৩-৬৫১০৫৭
ইমেইল : chatona.tv@gmail.com
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: টাউয়াদী, নরসিংদী-১৬০২