শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর সৃষ্টিগড় মৌজার জমির মুল্য পুন:বিবেচনার দাবীর আবেদন

তোফায়েল আহমেদ / ৭৫৪ বার
আপডেট : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

158

ঢাকা টু (কাঁচপুর) সিলেট তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নিতকরণ প্রকল্পে, নরসিংদী শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় মৌজার অধিগ্রহণের জমির দাম পূনঃ বিবেচনার জন্য একাধিক ভূমি মালিক নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয় একটি আবেদন করেন। উক্ত আবেদনে জমির মালিকগণ উল্লেখ করেন, সৃষ্টিগড় বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন দাগ নং যথাক্রমে – ৩০০/৩০১/৩০২/৩০৩/৩০৪/৩০৫/ ৩১৫/৩১৮/৩৬৩/৩৯৯/৯০১/৯০২/১১৩১/১২৩২ দাগের ভূমিতে যথাক্রমে দোকান ঘর মসজিদ স’মিল আইনজীবী চেম্বার বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংক শিল্প কারখানা বিদ্যমান।
উপরের সবগুলো দাগ’ই বাণিজ্যিক ভূমির অন্তর্ভুক্ত। ১৯৬২ সালে আর এস রেকর্ডে এই দাগগুলো বাগানের শ্রেণীভুক্ত দেখানো হয়। পরবর্তীতে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে ১৯৮০ সালে এই দাগগুলো বাণিজ্যিক ভূমিতে রূপ নিয়েছে কিন্তু দুঃখের বিষয় এই মৌজায় এখনো পর্যন্ত (বি এস) রেকর্ড হয় নাই।
আবেদনকারীরা লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন এইসব মৌজার জমিগুলো বিগত বছরগুলোতে প্রতি শতাংশ ৩০ লক্ষ টাকা দামে ক্রয় বিক্রয় হয়েছে এবং আবেদনকারীরা বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক হারে দিয়ে আসিতেছে।
আবেদনকারীরা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন জমি অধিগ্রহণ করতে আসা অধিগ্রহণ কর্মকর্তাগণ সরজমিনে ভূমি পরিদর্শন করিয়া অধিগ্রহণ করার সময় জমির মালিকদেরকে আশ্বস্ত করেন যে কাগজপত্র ভূমির শ্রেণী যাই থাকুক না কেন বর্তমানে যেটা যে অবস্থায় রয়েছে সেভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। ৭ দ্বারা নোটিশের পরও অধিগ্রহণ কার্যালয়ে শুনানি শেষে বাণিজ্যিক হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিকগণ অধিগ্রহণ অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন কাগজপত্রে জমির শ্রেণী যেভাবে আছে সেভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে-যা খুবই আকস্মিক। এই ভূমিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ও দোকান ঘর ভূমি মালিকদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম ও একমাত্র আয়ের উৎস। বর্তমানে ভূমি যে অবস্থায় আছে সে অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে ভূমির প্রকৃত মালিকগণ অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে সর্বস্বান্ত হবে। অনেকেরই অর্থাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে আত্মহত্যা করার মত পরিস্থিতি হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
আবেদনকারীরা আরো উল্লেখ করেন সৃষ্টিগড় মৌজায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের দুইপাশের বাণিজ্যিক ভূমিগুলো ত্রিশ লক্ষ টাকা হারে বিক্রয় হলেও সরকারিভাবে মৌজামূল্য- আশেপাশের সকল মৌজা থেকে অভাবনীয়ভাবে কম ধরা হয়েছে।
এখানে আবেদনকারীরা আর উল্লেখ করেন – সৃষ্টিগড় পরবর্তী মৌজা যোশর অন্তর্গত চৈতন্যা,কামারটেক শতাংশ প্রতি “নয় লক্ষ” টাকা হারে নির্ধারিত আছে। যোশর পরবর্তী মরজাল বাস স্ট্যান্ড বাজারে মৌজা মূল্য শতাংশ প্রতি ২৪ লক্ষ টাকা ধার্য আছে। মরজাল বাস স্ট্যান্ড বাজার মরজাল মৌজা, থেকে সৃষ্টিগড় বাজার মৌজা কোন অংশেই অনুন্নত নয় বরং ক্ষেত্রবিশেষে আরো বেশি উন্নত। পার্শ্ববর্তী রায়পুরা থানার এলাকার যে কোন মৌজা থেকে সৃষ্টিগড় মৌজার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক বেশি উন্নত। ভূমির মূল্য নির্ধারিত হয় ভূমির ব্যবহার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। সৃষ্টিগড় মৌজার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ছাড়াও অত্র মৌজার সকল রাস্তা সব ধরণের যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত। এছাড়া সৃষ্টিগড় মৌজায় অভ্যন্তরে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি জামিয়া মাদ্রাসা, একটি বিশ্ববিদ্যালয় (দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ), কয়েকটি মসজিদ, ঈদগা মাঠ খেলার মাঠ, ব্যাংক বুথ, সহ সব ধরনের সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান।
সুতরাং নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে সৃষ্টিগড় মৌজার অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের জমির দাম পূনঃ বিবেচনা করতঃ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আবেদন করেন একাধিক ভূমি মালিক।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ