শিরোনাম :
বিদেশিদের কথায় বিএনপি আন্দোলন করে না : ড. মঈন খান নরসিংদীতে আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের হালখাতা অনুষ্ঠিত  রেলওয়ের টিকিটে ডিজিটাল প্রতারণা! আয়ূবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার আর নেই রাঁতের আাধারেই ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠিত।। হতাশ নরসিংদীর ক্রীড়ামোদীরা রজবেন্নেছা আমজাদ স্মৃতি পাঠাগারে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত পবিত্র শবেবরাত আজ শিবপুরে আইডিয়েল কে.জি এন্ড হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ রায়পুরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনূর রশিদের বড় বোনের ইন্তেকাল নরসিংদীতে বাস-কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্ন্তদ্বন্দে বিপর্যস্ত নরসিংদী আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার / ১৫২ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৪

নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্ন্তদ্বন্দে বিপর্যস্ত নরসিংদী আওয়ামী লীগ। আগামী ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাযায় নরসিংদীর ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টিতেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে নৌকার মনোনীত প্রার্থীরা। এ আসন গুলোতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তাই হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ে নেমেছে প্রার্থীরা। বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে কর্মী সমর্থকরা। একজন অপরজনের বিরুদ্ধে করছেন তীর্যক মন্তব্য। কখনো সেই মন্তব্য শিষ্টাচারের সীমা লংঘন করছে। নিজ দলের নেতাদের মধ্যে অশোভন আচরণ ও বক্তব্যের জন্য হতাশ আওয়ামী লীগের নিরীহ সমর্থকরা।
নরসিংদী সদর আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য লে: কর্নেল (অব:) নজরুল ইসলাম হীরু এবং সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান কামরুলের মধ্যে বাকযুদ্ধ শিষ্টাচারের সীমা লংঘন করছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। দুজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তির মধ্যে এমন আচরণ কখনোই কাম্য হতে পারেনা। ভোটাররা আশংকা করছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

নরসিংদী ৩ শিবপুর আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সহ উপজেলা কমিটির সিংহভাগ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লার পক্ষ নিয়েছেন। সেখানকার নৌকার প্রার্থী রাব্বি খান বনেদি আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য। তার পিতা রবিউল আউয়াল খান কিরন সাবেক এমপি। চাচা হারুন অর রশীদ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দু’জনই সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন। সে হিসেবে তার রয়েছে সিমপেথী ভোট ব্যাংক।
এদিকে সিরাজুল ইসলাম মোল্লার বিপক্ষে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ও দুজনেরই বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে একে আপরের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নৌকার কর্মী খুনের অভিযোগ রয়েছে সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে। সব কিছু মিলিয়ে শিবপুরে নির্বাচনী সহিংসতা এবং ভোট কেন্দ্র দখলের আশংকা করছেন অভিজ্ঞ মহল।

মনোহরদী- বেলাব আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন, শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মনোহরদী উপজেলা পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বীরু। নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্যই তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী পরিবারের সদস্য খান পরিবার মজিদ পরিবারকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অবশ্য নির্বাচনের শুরু থেকেই নুরুল মজিদ হুমায়ুন বিভিন্ন সভা সমাবেশে বীরুকে হুমকি ধামকী দিয়ে এলাকা ছাড়ার ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু সাইফুল ইসলাম বীরু এ সবকে পাত্তা না দিয়ে বীর দর্পে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার সাথে ও আওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশ রয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে বেলাব উপজেলায় শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করছেন বীরু।
মনোহরদী- বেলাব উপজেলা সাধারণ ভোটাররা জানান, মন্ত্রী পুত্র সাদীর বিভিন্ন অপকর্মের খেসারত দিতে হতে পারে নৌকার মাঝিকে। অপরদিকে ক্লীন ইমেজের অধিকারী সাইফুল ইসলাম বীরুর চাচা সাবেক মন্ত্রী, অবসর প্রাপ্ত সেনাপ্রধান নুর উদ্দিন খানের আার্শিবাদ পুষ্ট। এলাকার সাধারন মানুষের ধারনা, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ঈগল নৌকাকে ডুবিয়ে দিতে পারে।

নরসিংদী ৫ রায়পুরা আসনে নৌকার কান্ডারী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহম্মেদ রাজু। ৬ বারের সংসদ সদস্য। বয়সে ভারে নূয্য হলেও নির্বাচনী মাঠে একজন দক্ষ খেলোয়াড়। এখানে চলছে গুরু শিষ্যের লড়াই। বয়সে তরুণ এ শিষ্য গুরুর জীবনের শেষ নির্বাচনে বাধ সেজেছেন। রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্তরদ্বন্দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। গুরুর দোয়ায় নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েই গুরু রাজু এমপি’র সাথে শুরু হয় মনমালিন্য। পরবর্তী নির্বাচনে মিজানুর রহমান চৌধুরীকে ফেল করান গুরু। বেড়ে যায় গুরু শিষ্যের দা কুমড়া সম্পর্ক। আর এ জন্যই গুরুকে একহাত দেখিয়ে দেয়ার শপথ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন শিষ্য। সাথে সামিল হন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসেন, ব্যারিষ্টার তৌফিক, মনোনয়ন বঞ্চিত রিয়াদ আহমেদ সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। চষে বেড়াচ্ছেন ২৪ টি ইউনিয়নের আনাচে- কানাচে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সাড়াও পাচ্ছেন প্রচুর। মিজান চৌধুরীর সমর্থকদের অভিযোগ, রাজু এমপি নরসিংদী এবং রায়পুরার কয়েজন জনবিচ্ছিন্ন ও দূর্নীতিবাজদের সাথে নিয়ে রায়পুরাকে শোষন এবং শাসন করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি সংসদ সদস্য। কিন্তু রায়পুরার কাংখিত উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই বিকল্প নেতৃত্ব খুজছে জনগন।
রাজু এমপির বিরুধীরা আরও বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচনে তিনি কখনোই জয় লাভ করেননি। তার প্রমান ৯১ সালে সুষ্ঠু নির্বাচনে আব্দুল আলী মৃধার কাছে বিশাল ব্যাবধানে হরেছিলেন। পরবর্তীতে যত নির্বাচনে জয়লাভ করেন, সব গুলো ছিল বিতর্কিত।
গুরু শিষ্যের এ লড়াই কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা বলা মুশকিল। ভোটারা আশংকা করছেন, উভয়ের মর্যাদার লড়াই শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
এদিকে রাজু এমপির সমর্থকরা বলছেন, গুরুর শেষ চাল কোথায় গিয়ে ঠেকে তা এখনই বলা যাবে না। তাঁকে পরাজিত করা সহজ কাজ নয়। কারন তার শিকড় অনেক গভীরে।
অবশ্য দিন শেষ নরসিংদীর এই ৪টি আসনে কে কে হাসবেন শেষ হাসি, সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৭ জানুয়ারী রাত পর্যন্ত।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ