আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নরসিংদী-৫ রায়পুরায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নানা সভা- সমাবেশ, গণসংযোগ, দোয়া চেয়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রচারণা চোখে পড়ছে। এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন অনেকেই। খোজ নিচ্ছেন দলের অবহেলিত, বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের।
ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশ কয়েকজনকে মাঠ দখলের প্রতিযোগিতায় দেখা মিললেও নিরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।
অপর দিকে জাতীয় পার্টি সম্ভাব্য প্রার্থী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম এর নামও শোনা যাচ্ছে।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে নৌকার মাঝি হতে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, টানা ছয়বারের সাংসদ, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপি, আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য রিয়াদ আহমেদ সরকার, কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ সামসুল হক, বঙ্গবন্ধুর দৌহিদ্র ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান, রায়পুরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরীকে মাঠে দেখা না গেলেও তার সমর্থকরা বলছেন তিনিও মাঠে রয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কথা বলেন এ প্রতিবেদক। তারা তাদেও অবস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপি বলেন, আমার জন্য না, সকল ষড়যন্ত্রের ভিতর দিয়েও আমি আমার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমি নির্বাচনে যাবো। ৫০ বছর ধরে আমি তিলে তিলে যে বাগান সৃষ্টি করেছি সে বাগান কাউকে ভাঙ্গতে দিবো না। আমি আশা করি আগামী নির্বাচনেও জনগণ আমার পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার বলেন, আমি আরো দুই মেয়াদ আগে থেকেই প্রার্থী হওয়ার চেষ্ঠা করেছি। উপজেলার প্রতিটি মানুষের কাছে গিয়েছি এবং তাদের পাশে থাকার চেষ্ঠা করে যাচ্ছি। যেহেতু আমি দলীয় কর্মী। আমি মনে করি আমাদের একটি নির্বাচনীয় মনোয়ন বোর্ড আছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। যেহেতু জাতির কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় পনের বছর রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন। তিনিই ভালো জানেন এবং বুঝেন কাকে দিলে ভালো হবে।
রিয়াদ আহমেদ সরকার বলেন, আমার রাজনীতি হাতেখড়ি ছাত্রলীগ থেকেই। কিন্তু আমার পারিবারিকভাবে রাজনীতি ৬৫বছরের। আমার পরিবারে ৬জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমার দাদা, বাপ-চাচারা ৭১এর যুদ্ধে স্বাধিনতার স্বপক্ষে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। আমার বড় চাচা রায়পুরায় মুজিব বাহীনির থানা কমান্ডার হিসেব যুদ্ধ চালিয়েছেন। বাকী চারজন মুজিব বাহীনি ছিলেন। আরেক চাচা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী সাহাবুদ্দিন আহমেদ। আমি দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাকে নৌকা উপহার দেন তাহলে আমি চরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ট্যাটাযুদ্ধ নিরসনে ও মেঘনার উপর বড় সেতু নির্মাণ সহ ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।
মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, রায়পুরা উপজেলার সাধারণ মানুষের একটাই কথা পরিবর্তন চায়। সে পরিবর্তনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই রায়পুরায় নতুন মুখ বেছে নিবেন। আমি দীর্ঘ ১০ বছর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান ছিলাম। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে নৌকা দিয়ে রায়পুরার মানুষের কাছে পাঠান তাহলে আমি রায়পুরার আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠিত করতে পারবো, আমাদের আওয়ামীলীগের মাধ্যে যে বিবেধ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে একমাত্র আমাকেই যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নৌকা দিয়ে পাঠান তাহলে এ নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
ব্যরিস্টার তৌফিকুর রাহমান বলেন, আমি ২০০০ থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত এবং সংগঠনকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে রায়পুরায় কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিগত নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের নমিনেশন চেয়েছিলাম কিন্তু এখানে যিনি সাংসদ আছেন তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন জননেতা রাজিউদ্দিন রাজু। উনি সিনিয়র নেতা সে কারনেই গতবার আমাকে দেওয়া হয়নি। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুনদেরকে মূল্যায়ন করবেন। সে সুবাদে এবার আমি আশাবাদী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
সালাহ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। রায়পুরা উপজেলার প্রতিটি মানুষ আমাকে চিনে জানে। আমি স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। উনি যাকে দেন আমরা তার হয়ে কাজ করবো।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সামসুল হক বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। কারন আমি দীর্ঘ ১৯৬৮ সাল থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। আমি আশা করি রায়পুরা থেকে যারা কাজ করছে তাদের চেয়ে অনেক বেশি দলের জন্য কাজ করছি আমি। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য রায়পুরাতে যারা আছেন আমি মনে করি তাদের থেকে আমি অনেক ভাল অবস্থানে আছি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমাদের আন্দোলন জনগণকে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলে বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিবে এবং সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। আর বিএনপির ক্ষমতায় এলে পরবর্তি তিনবছরের মধ্যেই বর্তমান অসহনীয় সমস্যাগুলো সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবো।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, দশে যদি সুষ্ঠু নিবাচন হয় আর বিএনপির যদি নিবাচনে অংশগ্রহন করে তাহলে ইনশাল্লাহ আমি মনোনয়ন চাইবো। রায়পুরায় আমি ছাড়া কেউ নিবাচন করবে আমার মনে হয় না। উপজেলার প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে আমি গিয়েছি। তারা আমাকে চিনে। আমার দলবল নাই, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি ইনশাআল্লাহ আওয়ামীলীগ থেকে দিগুন ভোট পাবো।
সম্পাদক: এবিএম আজরাফ টিপু,
মোবাইল : ০১৯১৩-৬৫১০৫৭
ইমেইল : chatona.tv@gmail.com
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: টাউয়াদী, নরসিংদী-১৬০২