আর মাত্র কয়েকদিন বাকী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পুরো শহর জুড়ে শুরু হয়েছে সাজ সাজ রব। দুয়ারে কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমন বার্তা। মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ শোনার অপেক্ষায় ভক্তকূল। সকালে শিউলি কুড়ানোর সময়টায় মাতৃ বন্দনায় মিলিত হবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এই শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নরসিংদীতে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পীর নিপুন হাতের ছোঁয়ায় দৃষ্টিনন্দন পূর্ণরূপ পেতে চলেছে প্রতিমাগুলো। সময় যত ঘণিয়ে আসছে প্রতিমালয়গুলোতে তত বেশী ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণে প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত রংয়ের প্রলেপ ও অঙ্গ সজ্জায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। মনের মাধুরী মিশিয়ে রং তুলির আঁচড়ে মা দুর্গাকে সাজাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। জেলা শহরের পূজা মণ্ডপ গুলোতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা, বৈচিত্র সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার সমারোহ।
তবে এই উৎসবের পুর্নতা যাদের হাতে, তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করলেও চাহিদার তুলনায় মজুরি পাচ্ছেন কম। দম ফেলার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে দিতে হবে প্রতিমা। বাপ-দাদার আদি পেশা, প্রতিমা তৈরীর কাজ করে মনে শান্তি লাগে তাই এই কাজ করছেন বলে জানান শিল্পীরা। এদিকে খড়, বাঁশ, লোহা, রশি, মাটি ও রঙসহ প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় এবার মুনাফা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রতিমালয়ের মালিকরা। ক্রেতারা আগের দামেই প্রতিমা নিতে চাচ্ছেন। ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিমা। কারিগরের বেতন, কারখানার ভাড়া ও বিভিন্ন উপকরণ খরচসহ এবার লোকসান গুণতে হবে বলে জানান মালিকরা।
গত বছরের তুলনায় নরসিংদীতে এবার বেড়েছে পূজা মন্ডপের সংখ্যা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এ জেলায় সকল ধর্ম-বর্নের মানুষের সহযোগীতায় নির্বিঘ্নে দুর্গাউৎসব পালনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায়ে তৎপর থাকবে পুলিশ। এছাড়া শহরের বিভিন্ন মোড়ে চেক পোস্টসহ র্যাব, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
সম্পাদক: এবিএম আজরাফ টিপু,
মোবাইল : ০১৯১৩-৬৫১০৫৭
ইমেইল : chatona.tv@gmail.com
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: টাউয়াদী, নরসিংদী-১৬০২