চেতনা রিপোর্টঃ নরসিংদীর বেলাবোতে অলি মাহমুদ ওরফে ভাস্কর অলি ও তার পিতা আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই এলাকাবাসীর। ভাস্কর বানানোর কথা বলে বেলাবো উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের ভাস্কর বানানোর কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার রয়েছে স্থানীয় একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অভিযোগ। সম্প্রতি বেলাবো উপজেলার বারৈচা গ্রামের দুলালকে ইউপি সদস্য বানানোর কথা বলে ১ লক্ষ টাকা নিলেও এটা পারেনি ভাস্কর অলি। চর উজিলাব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বানানোর কথা বলে বেলায়েত হোসেন বুলবুলের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেয় ভাস্কর অলি। যা আজো ফেরত দেয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে অপরদিকে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য গোপন রেখে বয়স বাড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন ভাস্কর অলির পিতা আতাউর রহমান। বিগত ১৪ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে অপর এক ছেলেকে পাইয়ে দেয়া হয়েছে সরকারি চাকুরীও। ভাস্কর অলি বর্তমানে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুবলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নানান ধরণের কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নেয়া টাকায় ধুকুন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হয় ভাস্কর অলি। এরপর বিদ্যালয়ের নতুন বই চুরি করে বিক্রি করে সে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিস্টদের পক্ষ থেকে আজো নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এছাড়া প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করতে বন্ধ করা হয় স্কুলের ক্লাস। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এই ভাস্কর অলি। পিতা ও পুত্রের নানান অপকর্মে অতিষ্ঠ বেলাববাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নরসিংদী জেলা যুবলীগের এক নেতা বলেন, তোষামোধ আর চামচামি তার প্রধান কাজ। এরই সুবাদে সুযোগ বুঝে চলে জালিয়াতি ও প্রতারণা। সে তো কোন নেতা নয়।
নরসিংদী জেলা যুবলীগের সভাপতি বাবু বিজয় কৃষ্ণ ঘোস্বামী জানান, চাঁদাবাজির সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ যুবলীগের নেতা পারে না এবং পারবেও না। চাঁদাবাজির সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ নিজেকে নেতা দাবী করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে এসএসসি (১৯৭৯) সার্টিফিকেট মতে ভাস্কর অলির পিতা শেখ আতাউর রহমানের বয়স ছিল ৮ বছর। অর্থাৎ ঐ সময় তিনি ছিলেন শিশু। এই তথ্য গোপন করে ভোটার আইডি কার্ডে বয়স বাড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে ১৪ বছর ধরে নিচ্ছেন নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও। আর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এক ছেলেকে সরকারি চাকুরীও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় বইছে নিন্দার ঝড়। নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার ধুকুন্দি গ্রামের মৃত: আসমত আলী’র ছেলে শেখ আতাউর রহমান। ১৯৭৯ সালে শিবপুর উপজেলার জয়নগর আলহাজ্ব আফসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তৃতীয় বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেন তিনি। তৎকালীন পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল শিবপুর। যাহার রোল নং— ৪৬৬২৮, রেজি নং—১৭৩১২/৭৬, বিভাগ— বিজ্ঞান ও জন্ম তারিখ ৩ জানুয়ারী ১৯৬৩ইং। তারা আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধা সনদ বহাল রাখতে ও নিয়মিত ভাতা পেতে সরকার পরিবর্তন হলেই খোলস পাল্টায় এই শেখ আতাউর রহমান। তিনি বর্তমান আমলাব ইউনিয়ন বিএনপি'র কর্মী বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তিনি ২০১৬ সালে আমলাব ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সদস্য ছিলেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমলাব ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আমার সাথে দীর্ঘ দিন বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন আতাউর রহমান। কিন্তু বর্তমানে শোনা যাচ্ছে তিনি আওয়ামীলীগ করেন। নিয়মিত রাস্ট্রীয় অর্থ ভোগ করতে এই তথ্যও গোপন রেখে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও এলাকায় আধিপত্য করতে এমন ঘৃনিত কাজ করেছেন। এলাকায় আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে বাপ—বেটা। তারা আরো জানান, আপন ছোট ভাইয়ের জমি জবর দখল করায় এ নিয়ে হয়েছে মামলা। যাহার মামলা নং বেলাব থানা এম মুকাদ্দমা নং— ৬৫/২৩। একাধিকবার সালিশ—দরবার ডাকা হলেও পিতা ও পুত্র তারা কেউ উপস্থিত হয়নি। এছাড়া সরকারিভাবে রাস্তার উন্নয়নমূলক কাজে বাধাসহ চাঁদা দাবি করায় ভাস্কর অলি’র বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির মামলা। যাহার বেলাব থানা সি আর মামলা নং ৩২৬/ ২৩। তবে এবিষয়ে শেখ আতাউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে, বয়স কমিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
যিনি বয়স কমিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেন, তিনি তো বয়স বাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাও হতে পারেন বলে রয়েছে এলাকাবাসীর প্রশ্ন। বিষয়টি জানতে পেরে তার বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণও করেছিলেন তারা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ নিয়ে চলছে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর। এভাবে রাস্ট্রীয় অর্থ ভোগ করার বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিস্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতনমহল।
বেলাবো উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান খান বলেন, শেখ আতাউর রহমান ও তার ছেলেরা দিনে আওয়ামী লীগ রাতে বিএনপি। এরা পিতা—পুত্র মিলে সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী নানান কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। সালিশ দরবারে ডাকা হলেও উপস্থিত হয় না তারা। এককথায় অসামাজিক লোক বলা চলে। তিনি আরো বলেন, জাল—জালিয়াতিসহ সামাজিক সকল অপকর্মের সাথে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। আর এটাই হলো ওদের মূল ব্যবসা। সে মুক্তিযোদ্ধা হয় কি করে ?
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে বেলাবো উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা জান্নাত তাহেরা জানান, এলাকাবাসীর ভিন্ন অভিমত থাকায় শেখ আতাউর রহমানের কাগজাদি দেখে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এদিকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শেখ আতাউর রহমান ও তার ছেলে ভাস্কর অলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
সম্পাদক: এবিএম আজরাফ টিপু,
মোবাইল : ০১৯১৩-৬৫১০৫৭
ইমেইল : chatona.tv@gmail.com
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: টাউয়াদী, নরসিংদী-১৬০২