সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

শিবপুরের থার্মেক্স মিলের কোয়ার্টারে জাহেলিয়াতি কায়দায় লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার এক শিশু।। গৃহকর্মী পলাতক

প্রতিনিধির নাম / ৩১৮ বার
আপডেট : রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

চেতনা রিপোর্টঃ দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে একটি পোশাক কারখানার কোয়ার্টারে আটকে রেখে গৃহকর্মী ৮ বছরের এক শিশুর ওপর চালানো হয়েছে জাহেলিয়াতি কায়দায় লোমহর্ষক নির্যাতন। শারীরীক ও মানসিক এই নির্যাতন সইতে না পেরে ওই শিশু গৃহকর্মী পালিয়ে বাড়ি ফেরার পর প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ হয়েছে। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার স্বনামধন্য একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা (প্রোডাকশন ডিরেক্টর) গৃহকর্তা মো: মঈন উদ্দিন মজুমদার জুয়েল ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম ওরফে শাপলার বিরুদ্ধে এই নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত দম্পত্তি। তাদের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। ২১ আগস্ট স্বজনদের কাছে এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা স্বীকার করে ওই শিশু। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে সে। গত ২৪ আগস্ট এই ঘটনায় শিশুটির পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধূরী।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার স্বনামধণ্য একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা (প্রোডাকশন ডিরেক্টর) গৃহকর্তা মো: মঈন উদ্দিন মজুমদার জুয়েল ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম ওরফে শাপলার কোয়ার্টারের বাসায় আড়াই বছর আগে অভাবের তাড়নায় ৬ বছর বয়সী ছেলেকে গৃহকর্মী হিসেবে দেয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দরিদ্র আব্দুর রশিদ। লেখাপড়া করানোসহ অন্য শিশুদের সাথে সময় কাটানো ও বাসার দরজা খুলে দেয়ার কাজের কথা বলে নেয়া হয়েছিল তাকে। এরপর থেকে কারণে অকারণে লাঠি, লোহা, বেলুন, ছেনিসহ নানা ধরনের জিনিস দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে বলে জানান তারা। এমনকি নিয়মিত খেতেও দিতো না শিশুটিকে অভিযুক্ত দম্পতি জুয়েল ও তার স্ত্রী শাপলা।
তারা আরো জানান, শিশুটির বাবা-মা ছেলেকে দেখতে গেলে বাসার ভেতরে ঢুকতে দেয়া হতো না তাদের। মাঝে-মধ্যে জানালা দিয়ে দেখা হলেও শিশুটির পড়নে থাকতো বড়দের পোশাক। যাতে নির্যাতনের ক্ষত দেখা না যায়। কখনো পিতা মাতার হাতে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দিতেন পাষন্ড জুয়েল ও শাপলা। নির্যাতন সইতে না পেরে বাসার পেছনের দেয়াল টপকিয়ে পালিয়ে গত ২১ আগস্ট বাড়ি ফেরার পর মা-বাবাসহ এলাকাবাসী জানতে পারেন লোমহর্ষক এই নির্যাতনের ঘটনা। শিশুটির শরীরে ক্ষত-বিক্ষত চিহ্নে ফুটে উঠেছে টানা আড়াই বছরের নির্যাতনের চিত্র। নির্যাতনের শিকার হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছে শিশুটি। ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয় ছাড়া অন্য কোন খাবার খাচ্ছে না। অস্বাভাবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রাতে ঘুমাতে না পারায় দেখা দিয়েছে নানা রকম মানসিক সমস্যা। শিশুটির ওপর পাষন্ড গৃহকর্মীর এমন নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশসহ সংশ্লিস্টদের নিকট ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
নির্যাতিত শিশুর মা ও বাবা বলেন, তার ছেলের চোখ, মুখ, ঘাড়, মাথা, বুক, পাসহ প্রায় সব অঙ্গে রয়েছে নির্যাতনের দাগ। ঠান্ডা পানীয় ছাড়া কিছুই খাচ্ছে না। এমনকি ঔষধও খাচ্ছে না। করছে অস্বাভাবিক আচরণ। সমস্যা দেখা দিয়েছে তার স্মৃতি শক্তিতেও। তার আচরণে মানুষ তাকে পাগল বলে নানান বিচার নিয়ে আসে। তাছাড়া এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না তারা।
এদিকে অভিযুক্ত দম্পত্তি জুয়েল ও তার স্ত্রী শাপলা’র বক্তব্য আনতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওই কোয়ার্টারে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে আব্দুর রহমান নামে কারখানার অপর এক কর্মকর্তা তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধূরী বলেন, এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির পিতা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ