শিরোনাম :
নরসিংদীতে বইমেলার উদ্বোধন রায়পুরা উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ নরসিংদীতে সাধু সঙ্গ অনুষ্ঠিত নরসিংদীর শীলমান্দীতে প্রধান শিক্ষকের হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত জার্মানে মোশাররফ হোসেন ভূইয়ার লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরসিংদীতে স্ত্রী হত্যায় পলাতক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ নরসিংদীতে আ.লীগ নেতা এড. আসাদোজ্জামানের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত শালুরদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সৃজনশীল মেধা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জার্মানির চ্যান্সেলর এর বৈঠক
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ন

শিবপুরের ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৮৭ বার
আপডেট : সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০২৩

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হারুনুর রশীদ সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে চলছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একনায়কতন্ত্র। চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার পর খুনীদের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উঠাবসা থাকার অভিযোগের পর তিনি অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েন। সে সুযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনিয়া জিন্নাত কেয়ার করছেন অন্য আর কাউকে। এমন অভিযোগ সরকারী কর্মচারী,সরকার দলীয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান তাপসি রাবেয়া জানান,কোন রেজুলেশন ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চেকবইয়ে স্বাক্ষর করতে বলেন। রেজুলেশন ছাড়া চেক বইয়ে সই করতে অস্বীকৃতি জানালে সরকারী প্রোগ্রাম কৃষিমেলায় দাওয়াত করা হয়নি তাকে। এখবর শুনে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রধান অতিথি হয়েও কৃষি মেলায় উপস্থিত থাকেননি বলে জানান তাপসি। উপস্থিত থাকেননি উপজেলা চেয়ারম্যানও।
উপজেলা চেয়ারম্যান আরো জানান, রেজুুলেশনে সই না নিয়ে ১৫ লাখ টাকার চেকে সই না দেয়ার কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে ছাড়াই নিয়ম বহিভূতভাবে একাই সভা সমাবেশ করছেন। এতে করে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা তার উপর চরম অসুন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে। তাঁর নানা অনিয়ম, কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও মহাসড়ক থেকে শিবপুর পৌরসভার নাম করে চাঁদা তোলাও বন্ধ হয়নি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহাসিন নাজির বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হেডাম অনেক বেশী। উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ মারা যাওয়ার পর সে এখন আর কাউকে কেয়ার ই করেন না। উপজেলা আইন শৃংখলা সভাসহ কোন সভায় তাদেরকে সম্মান বা কথা বলার সুযোগ না দিয়ে কাগজে কলমে সভা শেষ করে দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মহিলা নির্বাহী কর্মকর্তা কখনো কারো ফোন ধরেন না। চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে এহেন এমন কোন অনিয়ম নেই যে, তিনি করেন না। তার সরকারী গাড়ীর অপব্যবহার, সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্নমুলক আচরণ এবং তার বিরুদ্ধে সরকারী বিধি নিষেধ ভংঙের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নানা অনিয়মের খবর অতি সম্প্রতি পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর তাকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ডেকে এনে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এরপরও থেমে নেই তাঁর এসব অনিয়ম।
সরকারী প্রোগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে তার স্বামীকে উপস্থিত রাখার অভিযোগও রয়েছে এই ইউএনও’র বিরুদ্ধে। তার স্বামী কোন সরকারী চাকুরীজীবি না হলেও যত্রতত্র ইউএনও’র সরকারী গাড়ী ব্যবহার করে থাকেন। অফিস টাইমেও গাড়ী নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে। গত ঈদুল আযহার আগের দিন রাত সাড়ে তিনটায় ছোনপাড়া কাঞ্চন আঞ্চলিক সড়কের মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনায় পতিত হয় এই সরকারী গাড়ীটি। এতে করে সামনের বাম্পার ও ডানদিকে বডিতে প্রচন্ড চোট খায়। ফগ ও ইন্টিকেটর লাইট ভেংগে যায়। তখন ট্রাক থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করে ইউএনও’র স্বামী।
তখনকার গাড়ীর চালক মাইন উদ্দিন জানান, উল্লেখিত স্থানে প্রচন্ড জ্যামের মধ্যে বসা গাড়ীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তার গাড়ীর ডানদিকে লাগিয়ে দেয়। পরে ট্রাক থেকে দশ হাজার টাকার জরিমানা নিতে শুনেছি। তিনি আরো জানান,ইউএনও গাড়ীতে না থাকলেও তার স্বামী ও ইউএনও’র গানম্যান তখন গাড়ীতে ছিল। তখন গানম্যান ইউএনও’র স্বামীকে ইউএনও হিসেবে পরিচয় দেন ট্রাক ড্রাইভারদের সাথে।
জরিমানা আদায়ের পর গাড়ী কোন রকম ভাবে চালিয়ে শিবপুরে নিয়ে আসার সময় চালক মাইন উদ্দিন ইউএনও’র স্বামীকে জানান, কাজ না করে এই গাড়ী আর চালানো যাবেনা। জরিমানা আদায় করেও গাড়ীর কাজ না করায় তিন চারদিন পর জীবনবাজী রেখে তিনি গাড়ী চালাতে অস্বীকার করেন।
এরপর থেকে এখন পৌর সভার রোলার ড্রাইভার কামাল হোসেন ইউএনও’র গাড়ী চালায় বলে জানা গেছে। ঠুনকো অভিযোগে ইউএনও’র গাড়ী চালক রুবেলকে গত ৭ মাস যাবৎ ধরে শোকজ করে রেখেছেন এই ইউএনও। এরপরই রুবেলের পরিবর্তে মাষ্টার রুলে কাজ করা চালক মাইন উদ্দিনকে দিয়ে গাড়ী চালায়। এখন মাইন উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে পৌরসভার রুলার ড্রাইভার কামালকে দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইউএনও’র বর্তমান চালক কামাল হোসেনও মোবাইলে ইউএনওর গাড়ী দূর্ঘটনার কথা স্বীকার করেন। চালক কামাল জানায়, শুনেছি দূর্ঘটনার পর ট্রাক ড্রাইভারের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অথচ গাড়ী আগের মতই আছে। এখনো গাড়ীর কোন মেরামৎ কাজ করানো হয়নি। কামাল আরো জানায় জীবনের তাগীদে রিস্ক নিয়েই ইউএনও এবং তার স্বামীর রাতে দিনে দু’জনের ডিউটিই করতে হয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহে রাতে দুই তিন দিন ইউএনও’র স্বামীকে নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডিতে আসতে যেতে হয়। সেখানে তাঁর অফিস রয়েছে বলেও জানান চালকরা। এই অফিসের সামনেই নিদ্রাহীন রাত্রিযাপন করতে হয় তাদেরকে।
এদিকে ৭ মাস যাবৎ বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ইউএনও’র আরেক চালক রুবেল। তার বিরুদ্ধে ইউএনওর লিখিত অভিযোগ,সে নাকি বেয়াদবী করেছে। এমন অভিযোগের লিখিত জবাব দিলেও গত ৭ মাস যাবৎ বেতনভাতা পায়না বলে জানিয়েছেন গাড়ী চালক রুবেল। এসব বিষয়ে জানার জন্য শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনিয়া জান্নাত এর সরকারী মোবাইল নম্বরে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে এসএমএস দিলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। এব্যপারে জেলা প্রশাসনের দুই জন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, ইউএনও গাড়ীতে না থাকলে গানম্যান থাকার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া ইউএনও গাড়ী নিয়ে তাঁর জুরিডেকশনের বাইরে গেলে অবশ্যই জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে। ইউএনও’র স্বামী ইউএনও’র গাড়ী ও দেহরক্ষি নিয়ে বাইরে কোথাও যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি গিয়ে থাকেন এবং দুর্ঘটনায় পতিত হয় এ বিষয়টি তাদের এখনো জানা নেই। বিষয়টি শুনার পর তারা তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান প্রতিনিধিকে।
এদিকে এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঞা মোহনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয় গুলো খুবই দুঃখজনক। খুব শিঘ্রই বিষয়গুলো আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করবো এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করবো।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ